যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা দেওয়া নতুন শুল্ক নীতির জেরে বিশ্ব অর্থনীতি যেমন কাঁপছে, তেমনি নিজ দেশে সৃষ্টি হয়েছে চরম আর্থিক অস্থিরতা। ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্ক যুদ্ধ মার্কিন বাজারের ওপরই পড়েছে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াল স্ট্রিটে ধস নামে। যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে সূচকের বড় ধরনের পতন ঘটে, যা ২০২০ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ট্রাম্পের ঘোষণার পর চীনের প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে। এতে আমেরিকার রপ্তানি বাজার সংকুচিত হতে শুরু করে। এর জেরে মাত্র দুদিনেই মার্কিন পুঁজিবাজারে প্রায় ৫ লাখ কোটি ডলারের মূলধন উবে যায়!
ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ একাই ৬ শতাংশের বেশি হারে কমে যায়। একই অবস্থা ন্যাসড্যাক এবং ডাও জোন্সের সূচকের। একে একে ভেঙে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব সেক্টরাল সূচক। ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাকটর ইনডেক্স যা এক সময়ের সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল, এখন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আমদানিনির্ভর একটি বাজার। ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ফলে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাবাজারে। বাড়ছে মূল্যস্ফীতি, কমছে ক্রয়ক্ষমতা। এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক মন্দার ভীতি তীব্র হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি লগ্নিকারীদের আস্থায় ধাক্কা দিয়েছে। তারা ঝুঁকি এড়িয়ে পুঁজিবাজার থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছেন, ফলে ধসে পড়ছে মার্কিন বাজার।
সব মিলিয়ে, শুল্ক আরোপ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তারের কৌশল এখন বুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ট্রাম্পের এই কৌশল স্বল্পমেয়াদে রাজনৈতিক সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন