আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় আধিপত্য বিস্তার ও বালু ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির নেতা রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার (টিপু) গুলিবিদ্ধ হন।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাত ২টার দিকে ছাগলনাইয়া আদালত মাঠ সংলগ্ন শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘোপাল ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আলমগীর সিদ্দিকী ও তার সমর্থকদের হামলায় উপজেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক যুবদল নেতা রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার (টিপু) গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার গাড়িচালক আদনান, হুমায়ুন, সোহেল, ইমনসহ আরও কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শনিবার আহত রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার টিপু বাদী হয়ে আলমগীর সিদ্দিকীকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ২০–৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ছাগলনাইয়া থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেনী নদী থেকে বালু উত্তোলনের ব্যবসা নিয়ে আলমগীর সিদ্দিকী ও রিয়াজ উদ্দিন মজুমদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
আহত রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার টিপুর দাবি, বালু ব্যবসার বাবদ আলমগীর সিদ্দিকীর কাছে তার প্রায় ১৪–১৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। কিছু টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি অর্থ নিয়ে বিরোধের জেরে শুক্রবার গভীর রাতে জয়নাল ও ইসমাইল নামে দুই ব্যক্তি মীমাংসার কথা বলে তাকে আদালত মাঠে ডেকে নেন।
তার অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর আলমগীর সিদ্দিকী ৪–৫টি গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে গুলির স্প্লিন্টার তার পায়ে লাগে এবং পরে শটগান দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা শুভপুর সড়ক দিয়ে পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সামছুদ্দিন জানান, আহত ব্যক্তির মাথা, শরীর ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে হাসপাতাল থেকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই স্বজনরা তাকে অন্যত্র নিয়ে যান।
ছাগলনাইয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত টিপুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হামলায় জড়িতরা একাধিক গাড়িতে করে শুভপুরের দিকে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের জানান, এ ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আলমগীর সিদ্দিকী বলেন, ‘আহত যুবদল নেতা আমার সহকর্মী। যারা তার ওপর হামলা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
৮ ঘণ্টা আগে