হুট হাট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া আর বেফাঁস মন্তব্যের কারণে নিজের প্রথম মেয়াদেও সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই বাঁধিয়ে দিয়েছেন যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে টেনে এনেছেন পুরো বিশ্বকে। ট্রাম্প শুরু করলেন বাণিজ্যের বিশ্বযুদ্ধ।
অথচ ক্ষমতায় যাবার আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি সব যুদ্ধ বন্ধ করে দেবেন। শান্তি আনবেন পুরো বিশ্বে। কিন্তু হোয়াইট হাউজের মসনদে বসার কয়েক মাসের মধ্যেই সব উলট-পালট করে দিলেন তিনি।
প্রচলিত কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করেন না ট্রাম্প। নীল ছবির তারকার সঙ্গে সম্পর্ক থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক তথ্য নিয়ে গোপনীয়তা, সব জায়গাতেই ট্রাম্পের বিচরণ রয়েছে অবারিত। এমনকি ব্যবসায়িক নথিপত্রে তথ্য গোপনের মামলায় দোষীও সাব্যস্ত হয়েছিলেন ট্রাম্প। তাই নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন কিনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জিতেও নিয়েছেন মার্কিনিদের মন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসেই মার্কিন প্রচলিত রীতির বাইরে হুটহাট বড়বড় সিদ্ধান্ত নিতে থাকেন ট্রাম্প। ইউক্রেন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, গাজা দখলের পরিকল্পনা প্রণয়ন, ইরানে সরাসরি হামলার পরিকল্পনা এবং সর্বশেষ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ। ট্রাম্পের এসব নীতিতে এখন নড়বড়ে বিশ্বব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই নতুন শুল্কের প্রভাব হবে বিশাল। ১৯৩০ সালে অভ্যন্তরীণ ব্যবসা সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে। যা সুরক্ষাবাদ হিসেবে পরিচিত। এরপর প্রায় ১০০ বছরেও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এত উচ্চ দেখা যায়নি। ফলে এটা বিশ্ববাণিজ্যে শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন শুল্ক কাঠামোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। নতুন শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী, প্রায় অধিকাংশ দেশের ওপর ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোকেও বাদ দেওয়া হয়নি।
নতুন শুল্ক তালিকায় যেসব দেশকে লক্ষ্য করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভিয়েতনাম এবং চীন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ভারতকে ২৭ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ২০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামকে ৪৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। চীনের পণ্য আমদানির ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমরা আমাদের শিল্পকে রক্ষা করছি, এটা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পুনর্জন্মের দিন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ট্রাম্প বাণিজ্যের বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছেন যা হয়ত কারো জন্যই ভালো হবে না।
মন্তব্য করুন