ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তির প্রতিবাদ করায় মাইক্রোসফটের পাঁচ কর্মীকে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সত্য নাদেলার সঙ্গে বৈঠক থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের রেডমন্ডে মাইক্রোসফটের প্রধান কার্যালয়ে কর্মীদের জন্য একটি বৈঠক চলছিল। সেখানে সত্য নাদেলা নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে কথা বলছিলেন।
এ সময় পাঁচজন কর্মী প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের টি-শার্টে লেখা বার্তা প্রকাশ করেন। একসঙ্গে দাঁড়িয়ে তারা একটি প্রশ্ন তুলে ধরেন—আমাদের কোড কি শিশু হত্যা করে? বৈঠকের ভিডিও ও ছবি কোম্পানির ভেতরেই লাইভ স্ট্রিম করা হয়। কিন্তু সত্য নাদেলা প্রতিবাদকারীদের দিকে না তাকিয়ে তার বক্তব্য চালিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিরাপত্তাকর্মীরা এসে তাদের কক্ষ থেকে বের করে দেন।
কেন প্রতিবাদ?
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মাইক্রোসফট ও ওপেনএআই-এর উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ব্যবহার করছে। গাজা উপত্যকা ও লেবাননে বোমা হামলার লক্ষ্যবস্তু ঠিক করতে এসব প্রযুক্তি কাজে লাগানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালে লেবাননে একটি ভুল বিমান হামলায় তিন বোন ও তাদের দাদী নিহত হন। এ হামলায় মাইক্রোসফটের এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো মন্তব্য করেনি।
এ ঘটনার পর মাইক্রোসফটের অনেক কর্মী কোম্পানির ভেতরে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। তারা জানতে চান, মানবাধিকার রক্ষার নীতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও মাইক্রোসফট কেন এমন কাজ করছে?
মাইক্রোসফটের প্রতিক্রিয়া
মাইক্রোসফট এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা কর্মীদের মতপ্রকাশের সুযোগ দিই, তবে তা যেন ব্যবসার কাজে বাধা সৃষ্টি না করে। এমন কিছু হলে সংশ্লিষ্টদের অন্যত্র যেতে বলা হয়। আমরা সর্বোচ্চ নৈতিক মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে, বিক্ষোভকারী কর্মীদের শাস্তি দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।
এর আগেও কর্মীদের বহিষ্কার
এটাই প্রথম নয়। এর আগে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য এক কর্মসূচির আয়োজন করায় দুই কর্মীকে বরখাস্ত করেছিল মাইক্রোসফট। তখন প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অভ্যন্তরীণ নীতিমালার ভিত্তিতেই তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে, তবে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
কর্মীদের দাবি
এ বিষয়ে একটি কর্মী সংগঠন মাইক্রোসফটের ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করছে। বরখাস্ত হওয়া এক কর্মী আবদো মোহাম্মদ বলেন, মাইক্রোসফট মুনাফাকে মানবাধিকারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা চাই কোম্পানি ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক চুক্তি বাতিল করুক।
প্রতিবাদের পরিণতি কী হবে?
মাইক্রোসফটের অভ্যন্তরে এই প্রতিবাদ ও এআই প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহারের বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। কোম্পানির সিদ্ধান্ত কর্মীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে। কেউ কেউ ইসরায়েলি সেনাদের জন্য মাইক্রোসফটের সহায়তা সমর্থন করছেন, আবার অনেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কায় এর বিরোধিতা করছেন।
এখন দেখার বিষয়, মাইক্রোসফট তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে কিনা, নাকি কর্মীদের প্রতিবাদের মুখেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন