সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে গেল ৫ নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে। উভয় নেতার মধ্যকার সম্পর্ক যে ভালো নয়, তা বিশ্লেষকদের কাছে ওপেন সিক্রেট। তবে ড. ইউনূস শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের মান ভাঙাতে পারবেন বলেই বিশ্বাস বিশ্লেষকদের।
ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ গভীর। আর তাই দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কৌশলগত আবেদন রয়েছে। সে কথা যুক্তরাষ্ট্রও খুব ভালো করে জানে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ পুনর্গঠন এবং স্থিতিশীল করতে কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেক্ষেত্রে ট্রাম্পকে হয়তো আগের মতো কড়া ভাষায় সমালোচনা করবেন না ড. ইউনূস। তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানে গেল আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পতন ঘটে শেখ হাসিনা সরকারের। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন ড. ইউনূস। দেশের শাসনভার হাতে তুলে নিয়ে বেশ জটিল সমীকরণের মুখোমুখি হন তিনি। এক পাশে ভারত, আর অন্য পাশে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র- এই তিন দেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
২০১৬ সাল থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে ড. ইউনূসের খটোমটো সম্পর্ক। ওই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন ড. ইউনূস। সেবার নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে হেরে গিয়েছিলেন হিলারি ক্লিনটন। বিল ক্লিনটন ও তার হিলারির সঙ্গে ড. ইউনূসের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ট্রাম্পের সঙ্গে ড. ইউনূসের সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। যদিও এখন প্রেক্ষাপট ভিন্ন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
ভূরাজনীতির কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক। আবার ট্রাম্প নির্বাচিত হলেও বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন নীতির পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কেননা, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই নিজেদের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের কারণে হলেও মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগী হয়েছে।
গেল ৩১ অক্টোবর সোশ্যাল মিডিয়া একটি পোস্ট করে ঢাকার ক্ষোভের কারণ হয়েছিলেন ট্রাম্প। ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন বর্বরোচিত সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এমনকি তিনি হিন্দু আমেরিকানদের রক্ষায় প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশে তার সমর্থকদের ওপর পুলিশি অভিযানেরও কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্যের পরও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে এর প্রভাব পড়বে না। বিভিন্ন কমন ইস্যুতে ঠিকই কাজ করে যাবে দুই দেশ। আবার ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট নীতির মতো ঢাকাও এখন বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি ধরে এগোচ্ছে। সেক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্কে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে, সেজন্য লবিস্ট নিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তার কাজ হবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আবেদন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে তুলে ধরা।
মন্তব্য করুন