এবার যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা। দলটি মার্কিন-ব্রিটিশদের রণতরীতে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হুতিরা জানিয়েছে, তারা এবার লোহিত সাগরে মার্কিন ও ব্রিটিশদের রণতরীতে হামলা চালাতে পারে। আত্মরক্ষার জন্য এ হামলা চালানো হবে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
এক বিবৃতিতে হুতিদের মুখপাত্র জানান, আমেরিকা ও ব্রিটিশ রণতরী এ আগ্রাসনে অংশ নিয়েছে। তারা দেশটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। দলটি মার্কিন রণতরী ইউএসএস গ্রেভলিকে লক্ষ্য করে মঙ্গলবার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া এ ক্রুজ মিসাইল ভূপাতিত করা হয়েছে। ইয়েমেন থেকে তাদের জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি হুতিদের পরিচালিত আল মাসিরা টেলিভিশন জানিয়েছে, ইয়েমেনের প্রধান তেল রপ্তানি বন্দর রাস ইসসায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য। বন্দরটি ইয়েমেনের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দরটিতে দুটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সংবাদমাধ্যমটি।
উল্লেখ্য, ১২ জানুয়ারি ইয়েমেনে প্রথম হামলা চালায় মার্কিন জোট। ওই দিন আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে ইয়েমেনে হামলা চালানো শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।
দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) বার্তা সংস্থাকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য ইয়েমেনে লজিস্টিক্যাল হাব, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অস্ত্র সংরক্ষণাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইয়েমেনের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচলের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করায় ‘আমার নির্দেশে’ হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, কানাডা এবং নেদারল্যান্ডসের সমর্থনে হামলা চালানো হয়েছে।
ওই সময়ে একজন হুতি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, জোটের অভিযান সারা দেশে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ সাদা এবং ধামার শহর। হোদেইদাহ প্রশাসক এই হামলাকে আমেরিকান, জায়নবাদী ও ব্রিটিশ আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে।
মন্তব্য করুন