যুক্তরাষ্ট্রে ‘নতুন মহামারির’ সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ ভাইরাস ইংল্যান্ডেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে প্রথমবারের মতো একটি ভেড়ায় এইচ৫এন১ শনাক্ত হয়েছে। এটি আভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা নামেও পরিচিত।
সোমবার (২৪ মার্চ) সরকারি তথ্যের বরাতে স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় (ডিইএফআরএ) জানিয়েছে, ইয়র্কশায়ারে একটি খামারে নিয়মিত চেকের সময় এ ফ্লু ধরা পড়েছে। এর আগে দেশটিতে পাখিদের মধ্যে একই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। তবে খামারের বাকি পশুদের মধ্যে আর কোনো সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো এটি ভেড়ায় শনাক্ত হয়েছে। তবে অন্যান্য দেশে পশুদের মধ্যে এ ভাইরাসের উৎপত্তি এর আগেও দেখা গেছে। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে পশুর মধ্যে আভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধির কোনো প্রমাণ মেলেনি।
এফডিআরএ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে দুধের গরুর মধ্যে আভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা শনাক্ত হওয়ার পর, তারা সংক্রমিত খামারে পশুদের পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। ভাইরাসে আক্রান্ত ভেড়াটিকে হত্যা করা হয়েছে এবং ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। পশুদের মধ্যে বার্ড ফ্লুর কোনো লক্ষণ দেখা দিলে খামারিদের সতর্ক থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধান পশু চিকিৎসক ক্রিস্টিন মিডলমিস বলেন, আমরা ইয়র্কশায়রের একটি খামারে ভেড়ার মধ্যে ফ্লু শনাক্ত করেছি। এজন্য কঠোর বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে রোগটি আরও ছড়াতে না পারে।
তিনি বলেন, ‘পশুর মধ্যে আভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের ঝুঁকি এখনো খুব কম। তবে আমি সব পশু মালিকের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি, যেন তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সতর্ক থাকেন এবং যে কোনো সংক্রমণের লক্ষণ দেখতে পেলে দ্রুত প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থাকে (এপিএইচএ) অবহিত করেন।
যুক্তরাজ্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তা ড. মীরা চাঁদ বলেন, বিশ্বব্যাপী আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে আভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ ঘটছে। তবে বর্তমান প্রমাণ অনুযায়ী, আমরা যা দেখছি তা মানুষের মধ্যে সহজে ছড়ায় না এবং জনগণের জন্য আভিয়ান ফ্লুর ঝুঁকি অত্যন্ত কম।
খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসএ) বলেছে, সঠিকভাবে রান্না করা মুরগির মাংস এবং ডিম সুষমভাবে খাওয়া নিরাপদ এবং বার্ড ফ্লু খাদ্য মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ায় না।
মন্তব্য করুন