আমাদের এ গ্রহে নানা বর্ণের লোক বাস করে। কেউ কালো তো কেউবা ফর্সা, কেউ আবার লম্বা কেউবা বেঁটে। ৬ ফুট উচ্চতার মানুষ পৃথিবীতে খুব অস্বাভাবিক কিছুই নয়।
এবার এমন দম্পতির খোঁজ মিলেছে যাদের উচ্চতাও ৬ ফুটের কাছাকাছি। তবে এটি তাদের একার উচ্চতা নয় ,দুজনের মিলিত উচ্চতা।
এই দুজনের মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ ফুট সাড়ে ১১ ইঞ্চি। এর মধ্যে একজনের উচ্চতা ২ ফুট ৯.৬ ইঞ্চি এবং অন্যজনের উচ্চতা ২ ফুট ৯.৮ ইঞ্চি ।
তবে তারা জানিয়েছেন, আকারে ছোট হলেও হৃদয়টা তাদের অনেক বড়। একে অপরের প্রতি এমনকি তাদের জীবনের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মানুষের জন্য অনেক ভালোবাসার জায়গা হয় সেখানে।
তারা আরও বলেন, তাদের জীবন অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ । কিন্তু তারা খুব খুশি কারণ, তারা একসঙ্গে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারছেন।
২০০৬ সালে অনলাইনে তাদের প্রথম পরিচয়। তখন তাদের বয়স একেবারেই কম ছিল। তারা দুজনই ব্রাজিলের বাসিন্দা।
এ দুজন হলেন- পাওলো গ্যাব্রিয়েল দ্য সিলভা বারোস এবং কাতিওচিয়া লিয়ে হোশিনো। দীর্ঘদিন প্রেমের পর সেই প্রেম পরিণয়ে গড়ায় ২০১৬ সালে। একই বছরের ৩ নভেম্বর খর্বাকৃতি দম্পতি হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম ওঠে তাদের।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে এই যুগলকে নিয়ে একটি পোস্ট দেয় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ। সেখানে ব্যবহারকারীরা এই দম্পতির আকারের চেয়ে তাদের ভালোবাসা নিয়েই ছিলেন বেশি আপ্লুত। সেই পোস্টে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘ভালোবাসার জয়।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘চমৎকার! তোমাদের দুজনকেই অভিনন্দন।’
পাওলো ও কাতিওসিয়া বিয়ে করেন ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। গিনেস বুকে নাম ওঠার পর গত সাড়ে সাত বছর ধরে মানুষের আগ্রহ তাদের নিয়ে।
নিজেদের সম্পর্কে পাওলো আগে বলেছিলেন, ‘প্রথম কাতিওসিয়াকে দেখে তাকে অসাধারণ সুন্দরী মনে হয় তার । কাতিওসিয়া শুরুতে সোশ্যাল হ্যান্ডেলে পাওলোকে ব্লক করেন। তাই তাকে কাতিওসিয়ার মন জয় করতে অনেক সাধনা করতে হয়েছে। এরপর তাদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান ও ফোনে আলাপ চলতে থাকে। তাদের সরাসরি প্রথম দেখা হয় ২০০৮ সালের ২০ ডিসেম্বর।
দুজন নিজ নিজ শহরে চলে যাওয়ার কারণে চার বছর বড় একটা দূরত্বে থাকতে হয় দুজনকে। একপর্যায়ে দুজনই সিদ্ধান্ত নেন স্থায়ীভাবে গাঁটছড়া বাঁধার।
ব্রাজিলের এই দম্পতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিবেচনায় পৃথিবীর সবচেয়ে খর্বাকৃতির দম্পতি।
মন্তব্য করুন