বিদ্যুতের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার, যা দেশটির অর্থনীতির স্থিতিশীলতার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। বাসাবাড়ি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের এই মূল্য হ্রাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বিদ্যুতের দাম কমানো পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
এর আগে ২০২২ সালে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়ে পাকিস্তান। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এতটাই তলানিতে ঠেকেছিল, তা দিয়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব ছিল। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতি এক সময় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।
পরিস্থিতি যখন এই তখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দেশটির পাশে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে আইএমএফ পাকিস্তানকে ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন দেয়, তবে এর শর্ত ছিল বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমাতে হবে। সেই শর্ত মেনেই পাকিস্তান সরকার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছিল, যা সাধারণ জনগণের জন্য ছিল কষ্টসাধ্য।
বিদ্যুতের মূল্য কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, দাম কমাতে কী পরিমাণ কষ্ট করতে হয়েছে তা আমি প্রকাশ করতে পারব না। তবে সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম সফল হওয়ার ফলে এটি সম্ভব হয়েছে। সংস্কার চলমান থাকবে।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার ফলে যে সাশ্রয় হয়েছে, সেটি বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় করা হবে। এতে করে গ্রাহকরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন।
প্রসঙ্গত, গত তিন বছর ধরে পাকিস্তানে বিদ্যুতের দাম একাধিকবার বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে এবারই প্রথমবারের মতো মূল্য কমানো হচ্ছে। নতুন ঘোষণার ফলে বাসা-বাড়ির গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ৭ দশমিক ৪১ রুপি কমে ৩৪ দশমিক ৪৭ রুপিতে নামবে। অন্যদিকে, শিল্প খাতে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টার বিদ্যুতের দাম ৭ দশমিক ৫৯ রুপি কমিয়ে ৪০ দশমিক ৬০ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের অর্থনীতি গত কয়েক বছরে টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেছে। ২০২৩ সালের মে মাসে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা অর্থনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছিল। প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে যায় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে আসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। সেই সঙ্গে ব্যাংকের সুদের হার বেড়ে দাঁড়ায় ২২ শতাংশে।
বর্তমানে অর্থনৈতিক নীতির কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের কারণে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে হাঁটছে পাকিস্তান। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুতের মূল্য হ্রাস শুধু সাধারণ জনগণের জন্য স্বস্তির বিষয় নয়, বরং এটি শিল্প ও ব্যবসায় খাতের জন্যও ইতিবাচক। এতে উৎপাদন খরচ কমবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি আসবে।
পাকিস্তানে এখন ২৮১ রুপি দিয়ে এক মার্কিন ডলার কেনা যায়, যা মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রভাব কমার ইঙ্গিত দেয়। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ধারাবাহিকভাবে সফল হলে পাকিস্তানের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং দেশটি একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
মন্তব্য করুন