কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:৪৮ এএম
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পাকিস্তানে রহস্যে ঘেরা এক বিমানবন্দর

পাকিস্তানে রহস্যে ঘেরা এক বিমানবন্দর
পাকিস্তানের গোয়াদর বিমানবন্দর। ছবি : সংগৃহীত

সাজানো গোছানো চকচকে একটি বিমানবন্দর। রয়েছে বিলাসবহুল লাউঞ্জ, গাড়ি রাখার বিশাল পার্কিং লট। তাকলাগানো ফুড কোর্ট, রেস্ট রুম। বিলাসবহুল, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আর নিরাপত্তায় ঘেরা বিমানবন্দরটি যাত্রীসেবার জন্য আদর্শ এক বিমানবন্দর। বিমানবন্দরের যাত্রীধারণ ক্ষমতা চার লাখ। কিন্তু এই বিমানবন্দরের বাস্তবতা একটু ভিন্ন। কারণ এই বিমানবন্দরটিতে নেই কোনো যাত্রী, উড়ে না কোনো বিমান। ফলে এক রহস্যে পরিণত হয়েছে বিমানবন্দরটি।

বিমানবন্দরটি অবস্থিত ৯০ হাজার মানুষের আবাসের একটি শহরে, যার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের কোনো সংযোগ নেই। বিদ্যুৎ নিতে হয় পাশের দেশ থেকে। আরও অবাক করার মতো বিষয়, এই শহরে নেই পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাও।

এটি পাকিস্তানের গোয়াদর বিমানবন্দর। আরব সাগর সংলগ্ন বেলুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদর জেলায় অবস্থিত এই বিমানবন্দর। গোয়াদর এলাকাটি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখানে যেই আসে, তার ওপর কড়া নজর থাকে পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের।

পাকিস্তান-চীন সম্পর্ক বিশ্লেষকদের দাবি, এই বিমানবন্দর পাকিস্তানের স্বার্থে নয়, তৈরি হয়েছে চীনের স্বার্থে, যেন গোয়াদর আর বেলুচিস্তানে প্রবেশাধিকার পায় বেইজিং। ২০২৪ সালের অক্টোবরে নির্মাণ শেষ হওয়া এ স্থাপনার আশপাশে রয়েছে দারিদ্র্যপীড়িত ও অশান্ত অঞ্চল, যা এর শানশওকতের সম্পূর্ণ বিপরীত।

আরব সাগরের কোলের শহরটিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন করে শাহবাজ শরিফ সরকার। এর নির্মাণে যাবতীয় খরচ করেছে চীন। সেই অঙ্ক ২৪ কোটি ডলার বলে জানা গিয়েছে। আর্থিক দিক থেকে পাকিস্তানের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া প্রদেশে ওই বিমানবন্দর তৈরি করেছে চিন। গোয়াদরের লোকসংখ্যা আনুমানিক ৯০ হাজার। তাদের প্রায় কারও বিমানের টিকিট কাটার মতো টাকা নেই।

গোয়াদর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধনের সময়ে এটিকে শাহবাজ় সরকারের সাফল্য বলে উল্লেখ করে ইসলামাবাদ। শুধু তা-ই নয়, গোটা প্রকল্পটিকে ‘বন্ধু’ চীনের উপহার হিসাবে দেখছিল তারা। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এই ইস্যুতে পাল্টা বিবৃতি দেয় বেইজিং। গোয়াদর বিমানবন্দর নির্মাণের অর্থ ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় তারা।

এতে পাকিস্তান জুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ আজিম খালিদ। তার কথায়, বিমানবন্দরের মালিকানা আছে চীনের হাতে। এর সঙ্গে পাক সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

চীনের তহবিলে ফোর্থ গ্রেড স্টেটের এই বিমানবন্দরে বৃহত্তম যাত্রীবাহী বিমান অবতরণ করতে পারবে। তিন হাজার ৬৫৮ মিটার লম্বা, ৭৫ মিটার প্রশস্ত রানওয়ে নিয়ে এই বিমানবন্দরে কার্যক্রম চালাতে পারবে কার্গো বিমানও। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরেরে শিপমেন্ট হাব হিসেবে কাজ করবে এই বিমানবন্দর। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর, বেলুচিস্তানের সম্পদ সমৃদ্ধ এলাকায় অবস্থিত। স্বাধীনতাকামী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কারণে বরাবরই সহিংসতাপ্রবণ এই প্রদেশে। বেলুচিস্তানের জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বেলুচের সাধারণ মানুষ বরাবরই বলে আসছে, সরকারের পক্ষ থেকে তারা বৈষম্যের স্বীকার। এই বিমানবন্দরের কোনো কাজেই স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করা হয়নি।

গোয়াদরের স্থানীয় একজন বলেন, 'উন্নয়ন প্রকল্প তাদের কোন কাজে আসছে না। মানুষ কাজ পাচ্ছে না। বন্দর আছে, কিন্তু কাজে আসছে না। অবকাঠামো প্রকল্পে স্থানীয়দের কাজের ব্যবস্থা করা উচিত।' এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, গোয়াদর যখন ওমানের অংশ ছিল, এখানে যাত্রীবাহী জাহাজ নোঙর করত, পরে এখান থেকে ভারতে যেত। মানুষকে না খেয়ে থাকতে হয়নি।

এখন খাবার আর পানির সংকট চরমে। পাকিস্তানের শেষ প্রান্তে আরব সাগরের উপকূলে অবস্থিত বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় নেই ইসলামাবাদ থেকে সরাসরি কোনো ফ্লাইট।

মূলত স্থানীয় বিদ্রোহীদের দাপাদাপির কারণেই গোয়াদরকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারছে না পাক প্রশাসন। সেখানকার নবনির্মিত বিমানবন্দরটি থেকে পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর তথা সিন্ধ প্রদেশের রাজধানী করাচিতে যাওয়ার বিমান রয়েছে। সপ্তাহে তিন দিন এই রুটে বিমান পরিষেবা চলবে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। যাত্রীর অভাবে বর্তমানে এই রুটে সপ্তাহে এক দিন মিলছে পরিষেবা।

গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে বালুচিস্তানে চলছে সশস্ত্র বিদ্রোহ। অসন্তোষ দানা বাঁধার পর থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিম প্রদেশটির হাজার হাজার যুবককে পাক গুপ্তচরেরা গুম-খুন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সমস্ত ঘটনা সেখানকার অর্থনীতির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিমানবন্দরটির যাত্রী-আকর্ষণ হারানোর নেপথ্যে এই কারণটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নতুন দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন দলের নেতারা

কানাডার প্রাদেশিক নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো জয়ী মৌলভীবাজারের ডলি

স্বামী-সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন মার্জিয়া, অতঃপর...

ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ দল

মেঘনা নদীতে দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ

আগে জালিমের বিচার পরে নির্বাচন : মুজিবুর রহমান

২৭১ জনকে নিয়োগ দেবে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী

আ.লীগ নেতার স্ত্রীর নেতৃত্বে মোবাইল দোকান লুট

আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করলেন কেয়া পায়েল

সবার আগে রমজান মাস শুরুর ঘোষণা দিল যে দেশ

১০

স্থানীয়র পর জাতীয় নির্বাচন : গোলাম পরওয়ার

১১

গাজীপুরে অটোরিকশাচালক হত্যায় গ্রেপ্তার ২

১২

২০১৩ সাল ছিল আ.লীগের হত্যার মহোৎসব : প্রেস সচিব

১৩

গণমাধ্যমে কর্মরত স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে মিলনমেলা

১৪

ব্যর্থতা স্বীকার করে প্রথম সামরিক রিপোর্ট প্রকাশ ইসরায়েলের

১৫

স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে চিকিৎসকের বাড়ির সামনে নারী

১৬

ঢাকায় এসি বিস্ফোরণে ফারুকের মৃত্যু

১৭

কিশোরগঞ্জে জামায়াতের প্রার্থী হলেন সাবেক রাষ্ট্রপতির শ্যালক

১৮

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের জন্য আবেদনের নতুন রেকর্ড

১৯

সাভারে চার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করল হাইওয়ে পুলিশ

২০
X