ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহরাম দাবিরির বরখাস্ত। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের অভিযোগে তাকে পদচ্যুত করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
শনিবার (৫ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম ইরনা নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্সিয়ান নববর্ষের ছুটিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট দাবিরি ব্যক্তিগত উদ্যোগে দক্ষিণ মেরুতে এক বিলাসবহুল সফরে যান। এ সফরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় নিয়ে সরকারের ভেতরেই অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে একটি তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রেসিডেন্ট নিজেই তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।
এক সরকারি আদেশের মাধ্যমে শাহরাম দাবিরিকে তার পদ থেকে অপসারণ করেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।
বরখাস্তের ঘোষণা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে যখন ইরানের সাধারণ মানুষ কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি, তখন কোনো সরকারি কর্মকর্তার ব্যয়বহুল বিদেশ সফর মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়— যদি সেটি ব্যক্তিগত খরচে হয়ে থাকে। এটি আমাদের কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত সাদাসিধে ও জবাবদিহিমূলক জীবনযাপনের মানদণ্ডের পরিপন্থি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মাঝে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আপনার আচরণ জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের শামিল। দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।
এ বিষয়ে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের এই সিদ্ধান্ত তার ন্যায়পরায়ণতা, সততা এবং জনস্বার্থে অটল থাকার প্রতীক। তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকেই গুরুত্ব দেন।
ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত দেশটির প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির বার্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটা একপ্রকার সতর্ক সংকেত—সরকারি পদে থেকে কোনো প্রকার বিলাসিতা কিংবা দায়িত্বহীন আচরণ আর সহজে মেনে নেওয়া হবে না।
এই ঘটনাটি ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের জনমুখী নীতিমালার প্রতি দৃঢ় অবস্থানকে আবারও স্পষ্ট করে দিল।
মন্তব্য করুন