কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:১৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

কোন ভুলের শাস্তি পাচ্ছে লেবানন?

ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ধোয়া উড়ছে। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ধোয়া উড়ছে। ছবি : সংগৃহীত

একসময় লেবানন ছিল আরব্য ধনীদের প্রাণকেন্দ্র। এখন আর্থিক সংকটে থাকা দেশটি প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করছে। কয়েক মাস আগেও সাহায্যের জন্য সৌদি আরবের দ্বারস্থ হয়েছিল লেবানিজ সরকার। কিন্তু মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে রিয়াদ। শোনা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের কলকাঠি নাড়ার কারণেই ধুঁকে ধুঁকে শেষ হয়ে যাচ্ছে লেবানন। কী ভুলের কারণে এভাবে শাস্তি পাচ্ছে লেবানন?

লেবাননের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ। মুসলিম ও খ্রিস্টানদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এখন দেশ পরিচালনা করা হয়। এমন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির বিশ্বে বিরল। কিন্তু এই দেশেই রয়েছে তৃতীয় আরেকটি ফোর্স, সেটি হলো প্রতিরোধ যোদ্ধারা। তাদের সামরিক শক্তির পাশাপাশি লেবাননের রাজনীতিতেও রয়েছে ব্যাপক প্রভাব। এই গ্রুপটি আবার ইরানঘেঁষা। তাই শান্তির দেশ লেবানন নিয়ে শুরু হয় বহুমুখী রাজনীতি।

সাদ হারিরি পরিবার যখন লেবাননের ক্ষমতায় ছিল, যখন শান-শৌকত ভালোই উপভোগ করেছে দেশটি। কিন্তু প্রাণভয়ে সাদ হারিরি সৌদি পালিয়ে যাওয়ার পরই শনির দশা লাগে লেবাননে। একের পর এক ব্যর্থ সরকার আর আর্থিক সংকট দেশটিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে।

আবার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা লেবাননের কোমর ভেঙে দিচ্ছে। তাই উপায় না দেখে প্রতিবেশী ধনী দেশগুলোর দ্বারে দ্বারে ঘুরছে লেবানিজ সরকার।

প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রতি লেবাননকে আরও শক্ত হতে হবে; দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে এমন বার্তা দিতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। মিডল ইস্ট আই বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন বার্তা নিয়েই শুক্রবার বৈরুতে পা রাখবেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি মিডল ইস্ট দূত মর্গান ওরটাগাস। দেশটিতে পৌঁছে তিনি আউন ও অন্যান্য শীর্ষ লেবানিজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের নিষ্ক্রিয় করতে লেবানিজ সেনাবাহিনীকে আরও সক্রিয় করতে আউনকে চাপ দেওয়া হতে পারে।

বিপরীতে সৌদি আরব কেন লেবানন পুনর্গঠনে প্রতিশ্রুতি দেওয়া তহবিল আটকে দিল তা জানতে চাইবেন বৈরুতের কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই সৌদি আরব লেবানন অর্থ দিচ্ছে না। গেল মার্চে সৌদি সফরে গিয়েছিলে আউন। কিন্তু তাকে খালি হাতে ফিরতে হয়। এমনকি লেবানিজ পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতেও আপত্তি জানায় রিয়াদ। এ ছাড়া সৌদি দেশটির নাগরিকদের লেবাননে যাওয়াও আটকে রেখেছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামকে সৌদি থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়।

সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্রের সুনজর না পড়লে যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে লেবাননের সেনাবাহিনী। কেননা সেনাবাহিনীর সদস্যদের ঠিকমতো বেতন দিতে পারছে না সরকার। গত মার্চে ট্রাম্প প্রশাসন লেবানিজ আর্মিকে অর্থসহায়তা বরাদ্দ দিলেও তা বেতনের বাইরে অন্য খাতে ব্যয় করা লাগবে। আর আগামী বছর হয়তো, লেবাননকে আর কোনো টাকাই দেবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই বাকি থাকল সৌদি। কিন্তু সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কর্মকাণ্ড আরও বেশি সন্দেহে ভরা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ধাওয়া খেয়ে পালালেন গরিবের টাকা খাওয়া ইউপি সদস্য

ভারতে মুসলিম স্বার্থবিরোধী ওয়াকফ বিল পাসের প্রতিবাদে জামায়াতের প্রতিবাদ

ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে মোদির আচরণ কেমন ছিল, জানালেন প্রেস সচিব

মাছ ধরা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরব লীগের অবস্থান, মহাসচিবের বার্তা

নিষেধাজ্ঞা থেকে রক্ষা পেলেন রিয়ালের চার ফুটবলার

পদ্মায় নৌকা ডুবে নিখোঁজ স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করছে টিকটক, পাওয়া যাবে যে সুবিধা

কর্ণফুলীতে জেলের জালে নারীর লাশ

জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা

১০

ব্রহ্মপুত্র তীরে অষ্টমীর স্নানে লাখো পুণ্যার্থী

১১

আহত জাকিরকে দেখতে হাসপাতালে ব্যারিস্টার সায়েম

১২

বিদেশি মিডিয়া অনেক সময় মিথ্যা সংবাদ দিতে চায় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

১৩

পরকীয়ার জেরে স্বামীকে খুন, স্ত্রীর দায় স্বীকার

১৪

থাইল্যান্ড গিয়ে পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা ড. ইউনূসের

১৫

পোশাক খাত সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষির উপায় খুঁজছে বাংলাদেশ

১৬

৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে সাইকেল পেল ৬০ শিশু-কিশোর

১৭

স্পেশালিস্ট পদে নিয়োগ দিচ্ছে ফুডপান্ডা

১৮

মিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩

১৯

সাত জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ, বাড়বে তাপমাত্রা

২০
X