ফিলিস্তিনের গাজার বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনী মুহুর্মুহু হামলা চালিয়েছে। এতে ১১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। একই সময় শতাধিক আহত হয়েছেন। তাদের অনেককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সর্বশেষ নিহতের ফলে গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় দ্বিতীয় দফার ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ১১৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণ গেল। অপরদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের মোট সংখ্যা ৫০ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ, অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে আছে। তাদের উদ্ধারে স্বেচ্ছাসেবকদের যেতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি বাহিনী।
এর আগে বুধবার (২ এপ্রিল) গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ওই দিন ফিলিস্তিনের গাজায় জাতিসংঘের ক্লিনিকে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ২২ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার (২ এপ্রিল) উত্তর গাজায় জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) পরিচালিত একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিকে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালায়। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হামলাটি করা হয়। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা এই হামলাকে সম্পূর্ণ যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করে বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে।
তার আগের দিনেও ব্যাপক হামলা হয়েছে। ওই দিন ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত হন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হামলায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত ও ২৫০ জন জিম্মি হয়েছিল। জিম্মিদের উদ্ধার এবং হামাস নির্মূলে হামলা আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল।
মন্তব্য করুন