কারাবন্দি কুর্দি বিদ্রোহী নেতা আবদুল্লাহ ওজালান তার সংগঠন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইসঙ্গে কুর্দি বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসা এ সংগঠনকে সংঘাত বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ওজালানের এই বার্তা ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে পড়ে শোনান কুর্দি আইনপ্রণেতা ও নেতারা। তারা ওইদিন কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। বার্তায় বলা হয়, আপনারা কংগ্রেস আহ্বান করুন এবং সিদ্ধান্ত নিন; সব গোষ্ঠীকে অস্ত্র পরিত্যাগ করতে হবে এবং পিকেকে বিলুপ্ত হতে হবে।
ওজালানের কারাবাস ও পূর্ববর্তী শান্তি আলোচনা
ওজালান ১৯৯৯ সালে কেনিয়ায় গ্রেপ্তার হন এবং তুরস্কে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কারাগার থেকেই পিকেকের আদর্শিক নেতা হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছেন।
এর আগে ২০১৩ সালে তুরস্ক ও পিকেকের মধ্যে একটি শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছিল। তখন ওজালান একটি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৫ সালে এই আলোচনা ভেস্তে যায় ও পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়।
চার দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাত
এখন ওজালানের এ আহ্বান দীর্ঘদিন ধরে চলা কুর্দি-তুর্কি সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ১৯৮০-এর দশক থেকে চলে আসা এই লড়াইয়ে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান কুর্দিদের রাজনৈতিক সমর্থন পেতে আগ্রহী। তাকে ২০২৮ সালে ক্ষমতার মেয়াদ শেষে এ সমর্থন এরদোয়ানকে আবার ক্ষমতায় থাকার সুযোগ দিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রক্রিয়াটি এখনও অত্যন্ত নাজুক এবং সহজেই ভেস্তে যেতে পারে।
সমঝোতার ইঙ্গিত?
পিকেকে অনেক দিন ধরেই তুরস্কের সামরিক অভিযানের চাপে রয়েছে। অন্যদিকে, এরদোয়ানের রাজনৈতিক মিত্র ডেভলেট বাহচেলি কুর্দিদের প্রতি নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি ওজালান সহিংসতা ত্যাগ করেন এবং সংগঠন ভেঙে দেন, তবে তার মুক্তির সম্ভাবনা থাকতে পারে। এরদোয়ানও এই প্রক্রিয়াকে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
চ্যালেঞ্জ কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শান্তি উদ্যোগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পিকেকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিরিয়ার কুর্দি যোদ্ধারা কী সিদ্ধান্ত নেবে। সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) নামের এই গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ও ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে তুরস্ক তাদের শত্রু মনে করে এবং বিভিন্ন সময় সামরিক হামলা চালিয়েছে।
এসডিএফ কমান্ডার মাজলুম আবদি বলেছেন, ওজালানের এই নির্দেশ শুধু পিকেকের জন্য প্রযোজ্য, সিরিয়ার কুর্দি যোদ্ধাদের জন্য নয়।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওজালানের নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে এটি তুরস্কের জন্য কুর্দি সংকট সমাধানের একটি বড় সুযোগ হতে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
মন্তব্য করুন