চুক্তি অনুযায়ী ৬২০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত গাজার যোদ্ধা হামাস আর কোনো যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বসবে না। এ ঘোষণা দিয়েছেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম। অন্যদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ওই বন্দিদের মুক্তির ব্যাপারে এখনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। ফলে ৬২০ বন্দির ভাগ্যের ওপর যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব অনেকটা নির্ভর করছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। তখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে বন্দি বিনিময় স্থগিত করে হামাস। এতে ক্ষিপ্ত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ পশ্চিমা নেতারা। নির্ধারিত সময়ে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তিতে হামাসকে আলটিমেটাম দেন ট্রাম্প। সে সঙ্গে গাজায় সেনাদের প্রস্তুতির নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু। অব্যাহত চাপের মুখে ওই দফায় জিম্মি মুক্তি দিয়ে হামলার শঙ্কা প্রশমিত করতে বাধ্য হয় হামাস।
সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম বলেন, ‘সব বিকল্প খোলা রয়েছে। নেতানিয়াহু যদি আরও চার মৃতদেহ গ্রহণ করেন, তবে তিনি কি চুক্তি অনুযায়ী ৬২০ বন্দিসহ সব বন্দিকে মুক্তি দেবেন? নাকি তিনি আবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন? ইসরায়েল নির্ধারিত ৬২০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমরা আর কোনো যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বসব না।’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করছেন’ বলে অভিযোগ করেন হামাসের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার আগে, আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে আগের পর্যায় সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে, অর্থাৎ ৬২০ বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে বার্তা দিচ্ছেন যে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে চুক্তি ভেস্তে দিচ্ছেন এবং ফের যুদ্ধের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করছেন।’
গত শনিবার ছয় ইসরায়েলি বন্দির মুক্তির বিনিময়ে ৬২০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। তবে ইসরায়েল হঠাৎ করে সেই মুক্তির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। রোববার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, হামাস আমাদের জিম্মিদের অপপ্রচারের কাজে ব্যবহার করছে। তারা যেভাবে বন্দিদের মুক্তির অনুষ্ঠান করছে, তা আমাদের জিম্মিদের জন্য অপমানজনক। গত মাসে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে হামাস ও ইসরায়েল একাধিক বন্দিবিনিময় করেছে; কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে চান না।
মন্তব্য করুন