রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৪, ০৫:৪৩ পিএম
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪, ০৫:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

জয়-পরাজয় নিয়ে যা বললেন মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত

ভারতে লোকসভা নির্বাচনের পর ফলও ঘোষণা হয়েছে। এ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো রাজনৈতিক দল। ফলে জোটের ওপর নির্ভর করছে দেশটির সরকার গঠন। নির্বাচনের পর শেষ বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় জয়-পরাজয় নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। শনিবার (০৫ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০১৪ সালের নির্বাচনে ২৮২ আসন এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৩০৩টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। তবে এবারের নির্বাচনে দলটি পেয়েছে ২৪০টি আসন। দেশটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ২৭২ আসন। ফলে সরকার গঠনে জোটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলটির।

বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের নেতাদের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমরা ভালো কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এ ধারা অব্যাহত রাখব।

তিনি বলেন, জয়-পরাজয় রাজনীতির অংশ। সংখ্যার এ খেলা চলতে থাকবে।

বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদকে গত ১০ বছর ধরে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান মোদি। তিনি বলেন, আপনারা সকলে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি ভবনে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদ্রী মুর্মুর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। অন্যদিকে দেশটিতে নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথের তারিখও নির্ধারণ করেছে মন্ত্রিপরিষদ।

এর আগে মঙ্গলবার (০৪ জুন) ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের মতো সংসদের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তবে এ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ।

ভারতের সংবিধান অনুসারে, দেশটিতে মোট ৫৪৫টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২৭২ আসন। এ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি পেয়েছে ২৪০ আসন। আর তাদের শরীক দলগুলো পেয়েছে ৫২ আসন। সব মিলিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ২৯২ আসন। অন্যদিকে অপর জোট ইন্ডিয়া পেয়েছে ২৩৪ আসন। এছাড়া অন্যান্য দল মিলে পেয়েছে ১৭টি আসন। আসন সংখ্যার হিসাব অনুসারে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এনডিএ জোট সরকার গঠন করতে চলেছে। আর আবারও দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। আগামী শনিবারই তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। ভারতে জওহরলাল নেহরুর পরে তিনিই দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে টানা তিনবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন।

সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটিতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ২৭২টি আসন। যেখানে বিজেপি জিতেছে ২৪০টি আসনে। ফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নরেন্দ্র মোদিকে এবার সরকার গঠনে এনডিএ জোটের ওপরই নির্ভর করতে হবে। অর্থাৎ তৃতীয় মেয়াদে নরেন্দ্র মোদির দিল্লিতে সরকার গঠনের চাবিকাঠি আপাতত এনডিএ শরিকদের হাতে।

আর এমন পরিস্থিতিতে গুঞ্জন উঠেছে, সরকার গঠনের জন্য তেলেগু দেশম পার্টির প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু ও বিহারের জনতা দল-ইউনাইটেডের (জেডি-ইউ) কর্নধার নীতিশ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট। ইন্ডিয়া জোট চাইছে নীতিশ কুমার ও চন্দ্রবাবু নাইডু নরেন্দ্র মোদির জোট ত্যাগ করে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরকার গঠন করুক।

দুটি দলই ইন্ডিয়া জোটের সাবেক শরিক। পরে দলবদল করে তারা বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে বৈরিতা ভুলে সরকার গঠনে এই দুই নেতাকে জোটে ফিরিয়ে আনতে চাইছে বিরোধী শিবির।

এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দ্বিতীয় মোদি সরকারের মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক আজ। দিল্লিতে তৃতীয় দফায় সরকার গড়তে জোট শরিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে বিজেপি। এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দিতে নীতিশ-নাইডু ছাড়াও দিল্লিতে পৌঁছেছেন একনাথ শিণ্ডে ও জিতনরাম মাঝি। আজ (বুধবার) এ বৈঠকে বসছে এনডিএ জোট। আর এদিনই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক।

নীতিশ-নাইডু জোটবদল করবেন কি না- সেই গুঞ্জন আরও ডালপালা বিস্তার করেছে নীতিশ কুমার ও ইন্ডিয়া জোটভুক্ত আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব একই ফ্লাইটে দিল্লি যাওয়ার খবরে। তবে কি নীতিশ-নাইডু জোটবদল করে বিরোধী শিবিরে যোগ দেবেন? কী বলেছেন নীতিশ-নাইডু?

নীতিশ কুমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং জেডিইউ নেতা কেসি ত্যাগী ভোটের ফল বেরোনোর পরই সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছিলেন, তার দল এনডিএ-তেই থাকবে। ইন্ডিয়া-জোটে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই তাদের। এটাও বলা হয়েছে, অতীতে বারবার শিবির বদল করার রেকর্ড রয়েছে নীতিশ কুমারের। তাই এবার এই দুর্নাম আর নিতে চান না তিনি।

আর অন্ধ্রপ্রদেশের ফল সামনে আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চন্দ্রবাবু নাইডুও। তিনি জানিয়েছিলেন, তার দল এবং বিজেপি একসঙ্গে রাজ্যটিকে পুনর্গঠন করবে। অর্থাৎ আপাতদৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে তারা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেই থাকছেন।

তবে রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। দরকষাকষি এবং দেনাপাওনার খেলায় কে কাকে কাছে টানতে পারবে সেটাই এই খেলার মূল বিষয়। ৯ জুন তৃতীয় বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিতে পারেন মোদি। তবে তার আগে যদি জোট সমীকরণ ওলটপালট হয়ে যায়, তাহলে দিল্লির মসনদে হতে পারে পালাবদল।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপির সঙ্গে দ্রুত নির্বাচন চায় হেফাজতও

শাহবাগের আগুন নিয়ন্ত্রণে

নরেন্দ্র মোদি কি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন?

পেসারদের নেতৃত্বের বাধা দেখেন না সুজন

ট্রেন পরিষ্কার করতে বছরে খরচ দেড় কোটি টাকা

সেই ইয়াসিনের পরিবারকে ঘর দেবেন তারেক রহমান

ভিনিসিয়ুসের পেনাল্টি মিসে বার্নাব্যুতে রিয়ালের বিপর্যয়

ইরানে হামলায় পিছু হটে আলোচনার প্রস্তাব ট্রাম্পের

মৃত মুরগি নিয়ে থানায় বৃদ্ধা, বিচারের আশ্বাস ওসির

চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন তামিম

১০

বাকৃবির গবেষণায় টমেটোর নতুন জাত উদ্ভাবন

১১

ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ২ যুবকের

১২

বাকির টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে পেটালেন আ.লীগ নেতা

১৩

অবশেষে মুক্ত হলেন ১৮ দিন অবরুদ্ধ থাকা দুই পরিবার

১৪

শাহবাগে আগুন

১৫

সায়মা ওয়াজেদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রচার, যা জানা গেল

১৬

মাইক্রোসফটের হাতে ফিলিস্তিনিদের রক্ত : এক নারীর প্রতিবাদ

১৭

সিরাজগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩

১৮

প্রধান উপদেষ্টাকে এনবিআরের যে পরামর্শ

১৯

ধর্ষণচেষ্টা / সালিশে কান ধরে ওঠবস, অতঃপর…

২০
X