ভারতে মহাকুম্ভ মেলায় মৌনী অমাবস্যায় ‘পবিত্র স্নান’ করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। ধারণা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতী নদীর মিলনস্থলে পুণ্যস্নান করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ৪০ জনকে মর্গে নেওয়া হয়। আহত অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কুম্ভমেলা থেকে দুপুরেও হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় মতি লাল নেহেরু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনতে দেখা গেছে। তাদের অনেকেই ছিলেন মৃত। তবে সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা ঘোষণা করেনি।
একটি সূত্র জানিয়েছে, আরও মৃতদেহ আসছে। আমাদের এখানে প্রায় ৪০টি মৃতদেহ রয়েছে। আমরা সেগুলো সরিয়ে নিচ্ছি এবং একে একে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করছি।
তবে সিনিয়র পুলিশ অফিসার বৈভব কৃষ্ণের সাথে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভিড় সামলাতে ব্যস্ত থাকার কারণে পুলিশ আনুষ্ঠানিক সংখ্যা জানাতে পারছে না। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
বুধবার উত্তর ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে মহা কুম্ভমেলা বা গ্রেট পিচার ফেস্টিভ্যালে এ ঘটনা ঘটেছে। দেশটির এক কর্মকর্তা জানান, মেলায় লাখ লাখ মানুষ পুণ্যস্নান করতে জমা হয়েছিলেন। ঘটনাস্থলে ড্রোন ফুটেজে দেখা গেছে, ভোর হওয়ার সাথে সাথে লাখ লাখ ভক্ত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মহাকুম্ভমেলার সবচেয়ে শুভ দিনটি উপলক্ষে পবিত্র স্নানের জন্য আসেন। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেকে হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে যান। এছাড়া আচমকা ধাক্কাধাক্কি শুরু হওয়ায় অনেকে ভিড়ের মধ্যে আটকা পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই মেলায় আগত ভক্ত-জনতা গঙ্গাস্নানের উদ্দেশে নদীর তীরে ভিড় জমিয়েছিলেন। বুধবার সূর্য ওঠার আগেই স্নানের বাধ্যবাধকতা থাকায় ব্যাপক ভীড়ের সৃষ্টি হয়। তবে কী কারণে পদপৃষ্ঠের ঘটনা ঘটেছে তা জানা যায়নি।
ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, স্ট্রেচারে করে হতাহতদের হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। নদীর তীরে মেলার জন্য আগে থেকেই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন ছিল। বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।
কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এর কারণ স্পষ্ট নয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টাকালে ভক্তরা একটি বহির্গমনস্থলে আবারও পদদলিত হয়ে পড়েন। এরপর তারা বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে পন্টুন সেতুর দিকে ফিরে এসে দেখেন যে কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ করে দিয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একটি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র্যাফ) একটি বিশেষ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। তারা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন