তুরস্কে ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে পাঁচ দিন ধরে চলা ব্যাপক বিক্ষোভে এক হাজার ১৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। ইমামোগলু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
সোমবার (২৪ মার্চ) সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়ারলিকায়া জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ থেকে এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের রাস্তাগুলোকে আতঙ্কের পরিবেশে পরিণত করার এবং জাতীয় শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করার কোনো প্রচেষ্টাই সহ্য করা হবে না।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দুর্নীতির অভিযোগে ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তিনি এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাকে মেয়রের পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ইমামোগলুকে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তার গ্রেপ্তারি আদেশ তার প্রার্থিতার ক্ষেত্রে কোনো বাধা তৈরি করছে না। তবে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের গেজি আন্দোলনের পর দেশটিতে এটিকে সবচেয়ে বড় গণআন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের ৮১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ৫৫টি প্রদেশে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভগুলো শান্তিপূর্ণ থাকলেও সোমবার (২৪ মার্চ) রাতে ইস্তানবুলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ জলকামান, টিয়ার গ্যাস ও পিপার স্প্রে ব্যবহার করে।
ইস্তানবুলের রাস্তায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক তরুণী বলেন, আমাদের ভোটের অধিকার রয়েছে, আমাদের নেতা বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আমাদের সেই অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। আরেক তরুণ বলেন, আমরা গণতন্ত্র চাই। আমাদের নেতা আমরা নিজেরাই নির্বাচন করব, যেখানে কাউকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি করা হবে না।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এই বিক্ষোভের কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, বিরোধী দল সিএইচপি জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে এবং দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাইছে।
তুরস্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় কমিশন তুরস্ককে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। কমিশনের মুখপাত্র গিয়োম মের্সিয়ে বলেন, আমরা চাই তুরস্ক ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকুক, তবে এর জন্য গণতান্ত্রিক আদর্শ ও চর্চার প্রতি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।
এ ছাড়া প্রতিবেশী গ্রিস সরকারও তুরস্কের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, আইনের শাসন ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান নিশ্চিত না করলে এটি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তুরস্কে চলমান বিক্ষোভের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়ে দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নজর রাখছেন।
মন্তব্য করুন