কী ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছিল বাইকারের জন্য, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তিনি। প্রতিদিনের মতোই ব্যস্ত সড়কে বাইক চালিয়ে ফিরছিলেন ঘরে। হয়তো অপেক্ষায় ছিল সন্তানরা, কখন ফিরবে বাবা? অথবা নিশ্চিন্ত মনেই অপেক্ষাটা করছিলেন প্রিয়তমা স্ত্রী। কিন্তু ভাগ্যে মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, তা জানা ছিল না তাদের কারোরই।
আকস্মিক ৬ লেনের প্রশস্ত মহাসড়ক বিশাল গর্ত তৈরি করে পেটে পুরে নিল ঘরে ফিরতে যাওয়া মানুষটিকে। সামনের প্রাইভেটকার গর্তে পড়লেও শেষ মুহূর্তে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। কিন্তু ভাগ্যটা সদয় হয়নি বাইকারের ওপর। হঠাৎ তৈরি হওয়া ৬০ ফুট সিঙ্কহোল বা গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি।
দুবাই ভিত্তিক ভিডিও সরবরাহকারী প্লাটফর্ম ভাইয়োরি জানিয়েছে—ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পৌঁছে যান উদ্ধারকারীরা। দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা ধরে তাকে উদ্ধারে চলে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। শ্বাসরুদ্ধকর সেই অভিযান শেষে যখন তাকে উদ্ধার করা হয়, তখন নিস্তেজ দেহটায় ছিল না প্রাণের অস্তিত্ব। অনেক আগেই পৃথিবীর সাথে সম্পর্কটা চুকে গেছে হতভাগা বাইকারের।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় সময় সোমবার এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। পেছনে থাকা একটি গাড়ির ড্যাশ ক্যামেরা ধরা পড়ে সেই দৃশ্য। ফুটেজে দেখা যায়—যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলছিল, কিন্তু হঠাৎই সড়কের নিচে ভয়ঙ্কর গর্ত তৈরি হয়। দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসা মোটরসাইকেল আরোহীর ব্যক্তিটির থামার কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি সরাসরি বিশাল গর্তে পড়ে যান। একই দুর্ঘটনায় আরেকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই ভয়াবহ সড়ক ধসের কারণ এখনও জানা যায়নি। সিউলের মেয়র ওহ সে-হুন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন