ভারতের বিপক্ষে ১৯৭৪ সালে প্রথম কাবাডি টেস্ট খেলার পর দ্বিতীয়টির নথি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৯৭৯ সালে অ্যাওয়ে সিরিজ খেলতে দল পাঠানো হয়েছিল বটে, রেকর্ড ঘেঁটে কোনো ফল পাওয়া যায়নি। সে হিসাবে অফিসিয়াল টেস্ট ম্যাচ বলতে ওই ১৯৭৪ সালই স্বীকৃত। ৫০ বছর পর কাবাডি টেস্টে ফিরছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে কাবাডি টেস্ট খেলার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম ধাপে থাকছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম টেস্ট। ১৮ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশকে অফিসিয়ালি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা কাবাডি ফেডারেশন। হোমে খেলার পর অ্যাওয়ে টেস্ট খেলতে যাবে বাংলাদেশ। শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ইরাকসহ অন্যান্য দেশের বিপক্ষেও এমন দ্বিপক্ষীয় টেস্ট খেলার পরিকল্পনার কথা জানালেন বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ।
‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে লড়াই করতে হলে প্রথমে নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। টেস্ট ম্যাচ খেলে সক্ষমতা যাচাই করা যাবে, সেইসঙ্গে আমাদের খেলোয়াড়রা পরিণত হয়ে উঠবেন, যা বাংলাদেশ কাবাডির উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণেই আমরা হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে টেস্ট খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি’—কালবেলাকে বলছিলেন এস এম নেওয়াজ সোহাগ।
১৯৭৪ সালে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলা সুবিমল চন্দ্র দাস ও আমির হোসেন পাটোয়ারী কাবাডিতে এখনো সক্রিয়। স্মৃতি হাতড়ে তারা ১৯৭৪ সালের পর কোনো টেস্ট সিরিজের ফল মনে করতে পারলেন না। জানা গেছে, ১৯৭৫, ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সালে টেস্টের জন্য ক্যাম্প করা হয়েছিল বটে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। ১৯৭৯ সালে অ্যাওয়ে টেস্ট খেলতে একটা দল ভারতে গিয়েছিল। কিন্তু কোনো ম্যাচের ফল খুঁজে পাওয়া যায়নি।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ কোথায় অনুষ্ঠিত হবে—এখনো নিশ্চিত হয়নি। বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন ভেন্যুকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। দেশের পরিস্থিতি এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ সম্পর্কে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্যে জাতীয় দলের উন্নয়ন। উন্নয়ন পরিকল্পনা এমনভাবে সাজানোর চেষ্টা চলছে, যাতে দেশের কাবাডিতে জাগরণ সৃষ্টি করা যায়। এজন্য ঢাকার বাইরের বিভিন্ন ভেন্যুকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এখনো অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’
মন্তব্য করুন