রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তি এখন মাঠের বাইরে সবচেয়ে বড় লড়াইয়ে—স্পেনের কর ফাঁকির মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে তাকে প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে কাটাতে হতে পারে। এক দশক আগের ইমেজ রাইটস লেনদেনে গরমিল ধরা পড়ায় শুরু হয়েছে আদালত প্রক্রিয়া, যদিও আনচেলত্তি দাবি করেছেন তিনি কিছু্ই জানতেন না।
কার্লো আনচেলত্তির নাম উচ্চারিত হলে রিয়াল মাদ্রিদের অসংখ্য সাফল্যের চিত্র চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু এবার তিনি আলোচনায় একেবারে ভিন্ন কারণে—মাদ্রিদের আদালতে কর ফাঁকির অভিযোগে চলছে তার বিচার।
স্পেনের কর কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে ইমেজ রাইটস থেকে আয় করা ৪.২ মিলিয়ন ইউরো গোপন করেছেন আনচেলত্তি, যেটা নাকি লুকানো হয়েছিল বিদেশি শেল কোম্পানির মাধ্যমে। প্রসিকিউশন চাইছে ৪ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড ও ৩.২ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা।
৬৫ বছর বয়সী আনচেলত্তি অবশ্য শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। আদালতে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো ইমেজ রাইটস নিয়ে মাথা ঘামাইনি। আমি শুধু নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম যে আমার তিন বছরের চুক্তিতে আমি নেট ৬ মিলিয়ন ইউরো পাব। ক্লাব আমাকে জানায়, ১৫ শতাংশ ইমেজ রাইটসের মাধ্যমে দেবে, আমি সেটাকেই স্বাভাবিক ধরে নিয়েছিলাম।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি পুরোপুরি ব্রিটিশ অ্যাডভাইজারের ওপর ছেড়ে দেন এবং এরপর আর কিছু ভাবেননি। ‘আমাকে কোনোদিন জানানোও হয়নি যে আমি তদন্তের আওতায় রয়েছি,’—বলেন আনচেলত্তি।
তবে স্পেনের ইতিহাস বলছে, এমন মামলায় বড় তারকারা আগেও ফেঁসেছেন। লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দুজনেই কর ফাঁকির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে এক বছরের নিচে সাজা পেলেও জেলে যেতে হয়নি, কারণ স্পেনে দুই বছরের কম সাজা সাধারণত স্থগিত রাখা হয়।
সেই একই পথে হয়তো হেঁটে যাবেন আনচেলত্তিও। তবে রায় যাই হোক, ফুটবল বিশ্বে এ ঘটনা যে তার মর্যাদায় একটা ছায়া ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।
মন্তব্য করুন