২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে দল সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার প্রস্তাবকে ‘ফুটবলের জন্য হুমকি’ বলে আখ্যা দিলেন উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন। তিনি এটিকে ‘খারাপ ধারণা’ বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—বিশ্বকাপের মর্যাদা ও ইউরোপীয় বাছাইপর্বের গঠন একসাথে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন সিদ্ধান্তে।
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় ৪৮ দলের ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো মাঠে গড়াবে ফিফা বিশ্বকাপ। কিন্তু এর পরের আসর অর্থাৎ ২০৩০ সালের জন্য আরও ১৬টি দল যোগ করে মোট ৬৪ দলের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে—যা উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিনের মতে, ‘একেবারেই অযৌক্তিক’।
গত ৬ মার্চ ফিফার কাউন্সিলের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন উরুগুয়ের এক প্রতিনিধি। তবে চেফেরিন বলেন, ‘এই প্রস্তাবটা আমার জন্যও যেমন আশ্চর্যজনক ছিল, আপনাদের জন্যও তেমন। এটা খারাপ সিদ্ধান্ত। বিশ্বকাপ এবং ইউরোপিয়ান বাছাইপর্ব—দুটোরই গঠনগত ক্ষতি হবে এতে।’
চেফেরিন আরও জানান, উরুগুয়ের পক্ষ থেকে এমন একটি প্রস্তাব আসবে, সেটি আগে থেকে ফিফার কাউন্সিলে কেউই জানতেন না। ২০৩০ বিশ্বকাপে তিন মহাদেশের ছয়টি দেশ (স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ে) মিলে আয়োজন করবে টুর্নামেন্টটি। ঐতিহাসিক ১৯৩০ আসরের শতবর্ষ উদযাপন হিসেবে এই ছয় দেশের মধ্যে লাতিন আমেরিকার তিন দেশ একটি করে ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি পেয়েছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যদিও সাধারণত বড় পরিসরের টুর্নামেন্ট সমর্থন করে থাকেন, তবে বৃহস্পতিবার উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি ৬৪ দলের প্রস্তাব নিয়ে কিছু বলেননি।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে বিশ্বকাপের ম্যাচ সংখ্যা ১২৮-এ পৌঁছাবে—যা অনেকে বলছেন, খেলার মান এবং উত্তেজনা দুটোই কমিয়ে দেবে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বও অর্থহীন হয়ে পড়বে।
ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, তারা কখন বা কীভাবে এই প্রস্তাব বিবেচনা করবে। তবে আগামী ১৫ মে, প্যারাগুয়ের আসুনসিওনে অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক কংগ্রেসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন