একটা সময় মনে হচ্ছিল, বার্সেলোনা স্বস্তিতে প্রথম লেগ থেকে জয় নিয়ে ফিরবে। কিন্তু অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ শেষ মুহূর্তে বিস্ফোরক প্রত্যাবর্তনে ৪-৪ গোলে ম্যাচ শেষ করে বার্সাকে হতাশার সাগরে ভাসিয়ে দেয়।
মঙ্গলবার অলিম্পিক স্টেডিয়ামে উত্তেজনাকর কোপা দেল রে সেমিফাইনালে ম্যাচের প্রথম ছয় মিনিটেই অ্যাথলেটিকো এগিয়ে যায় জুলিয়ান আলভারেজ ও আন্তোয়ান গ্রিজমানের গোলে। কিন্তু বার্সেলোনা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।
পেদ্রির গোলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে স্বাগতিকরা। তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবারসি ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম গোল করে বার্সাকে সমতায় ফেরান। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইনিগো মার্তিনেজের গোলে বার্সা ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও বার্সার দাপট বজায় ছিল। ৭৪তম মিনিটে লামিন ইয়ামালের অসাধারণ ড্রিবল ও কাটব্যাক থেকে বদলি নামা রবার্ট লেভানডোভস্কি গোল করলে মনে হচ্ছিল, ম্যাচ বার্সেলোনার পকেটে।
তবে শেষ সময়ে সিমিওনের দল চমক নিয়ে অপেক্ষা করছিল। ৮৪তম মিনিটে মার্কোস লোরেন্তের গোল অ্যাথলেটিকোর আশার আলো জ্বালায়। আর অতিরিক্ত সময়ে আলেক্সান্ডার সোরলথ দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে বার্সার স্বপ্ন ভেঙে দেন।
বার্সার কোচ হ্যান্সি ফ্লিক স্পষ্টতই হতাশ ছিলেন এই ড্রতে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় পুরো ম্যাচই দারুণ খেলেছি, কিন্তু শেষ মুহূর্তের ভুলগুলো মেনে নেওয়া কঠিন। চতুর্থ গোলটি আমাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করেছে। রক্ষণে কোনো চাপ তৈরি করতে পারিনি, যা আমাদের খেলায় থাকা উচিত ছিল না।’
তবে ফ্লিক দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আশাবাদী, ‘৯৫ শতাংশ সময় আমরা দারুণ খেলেছি। শুধু শেষের ৫ শতাংশে ভুল করেছি, আর সেটাই আমাদের জন্য ব্যয়বহুল হলো। কিন্তু আমাদের মানসিকতা ঠিক পথে আছে।’
আলেক্সান্ডার সোরলথ যেন বার্সার জন্য দুঃস্বপ্নের আরেক নাম। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম আমি গোল করব! বার্সেলোনার মাঠে এটা আমার চতুর্থ বা পঞ্চম গোল।’
এই ড্রয়ের ফলে দ্বিতীয় লেগ একেবারে উন্মুক্ত হয়ে গেল। ২ এপ্রিল মাদ্রিদের মেট্রোপলিটানোতে ফিরতি লেগে নির্ধারিত হবে কে যাবে ফাইনালে।
মন্তব্য করুন