মাদ্রাসাছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় ‘পুরুষশূণ্য’ গ্রাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মাদ্রাসাছাত্রী হোসনে আরার মৃত্যুর ঘটনায় মিথ্যা মামলা-হামলার ভয়ে একপ্রকার পুরুষশূণ্য হয়ে পড়েছে উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের নিমবাড়ি গ্রাম। নিহতের পক্ষের লোকজন বাড়িতে থাকলেও ঘটনার পর থেকে পরবর্তী মামলা ও হামলা থেকে বাঁচতে গ্রাম ছেড়ে প্রতিপক্ষের পুরুষরা চলে যাওয়ায় আতংকে রয়েছে বাড়ি-ঘরে থাকা নারী ও শিশুরা। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে প্রতিপক্ষের লোকজনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর করার অভিযোগ ওঠে ও নিহতের পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলে সটকে পড়ে ভাঙচুরকারীরা। পুলিশ এ সময় কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেন। ক্ষতিগ্রস্থ নোয়াব মিয়ার স্ত্রী মাজেদা বেগম বলেন, সকালে প্রতিপক্ষের বেশকিছু লোকজন দেশীয় অস্ত্র দা, বল্লম ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের বাড়িতে ঢুকেই ভাঙচুর শুরু করে আর বলতে থাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে। নয়তো অবস্থা খুবই খারাপ হবে। এ সময় হামলাকারীরা তার দুই মেয়ের গা থেকে জোরপূর্বক স্বর্ণালঙ্কার, চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট ও জমি বিক্রি করা প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঘর থেকে লুট করে নিয়ে যায়। হুমকি দিয়ে যায় রাতে বেলায় এসে গোয়ালের সব গরু নিয়ে যাবে। ভয়ে আছি রাতে কী হয়। তারা তাদের নিজের মেয়েকে টাকার লোভে মেরে এখন আমাদেরকে মারধর ও লুটতরাজ চালাচ্ছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেন নিহতের পক্ষের স্বাক্কু মিয়া বলেন, সকালে উত্তেজিত নিহতের কিছু স্বজন প্রতিপক্ষের নোয়াব মিয়ার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালালে খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে তিনি তাদের প্রতিহত করে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। তাদের কোনো প্রকার ক্ষতি করার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে কসবা থানার ওসি মো. রাজু আহাম্মেদ বলেন, আমরা বিষয়গুলো দেখছি। ঘটনার সত্যতা পেলে যারাই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। তবে নিমবাড়ী গ্রামে গুজবে কান দিয়ে সংঘর্ষে জড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১১ জানুয়ারি, ২০২৪
X