নকল পণ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে প্রতারকরা
ব্যবসায়ী নামক এক শ্রেণির প্রতারকরা নকল পণ্য উৎপাদন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এ বিষয়ে বিএসটিআইর সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আজকের পরিমাপ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিএসটিআইর মহাপরিচালক (গ্রেড-১) এস এম ফেরদৌস আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা ও এফবিসিসিআইর প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম। শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি পণ্য দেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে সমাদৃত করতে আমরা কাজ করছি। বিএসটিআই তাদের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করছে। এ প্রতিষ্ঠানের অফিস ও ল্যাবরেটরি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২১ মে, ২০২৪

স্যামসাংয়ের নামে নকল পণ্য বিক্রি করছে রায়ানস
স্যামসাংয়ের নামে নকল পণ্য বিক্রি করে প্রতারণা করছে রায়ানস নামে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘রায়ানস কম্পিউটার্স লিমিটেড’। সম্প্রতি রায়ানস থেকে স্যামসাংয়ের একটি দুই টেরাবাইট (টিবি) এসএসডি (সলিড-স্টেট ড্রাইভ) কেনেন তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা অনন্য জামান। দেখা যায় এসএসডিতে স্যামসাংয়ের নকল স্টিকার সিলভার কন্ট্রোল লাগানো। ডিভাইসটি কম্পিউটারে লাগিয়ে পরীক্ষা করলে নকল ধরা পড়ে। বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেছেন অনন্য জামান। সামাজিকমাধ্যমে আপলোড করা ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ২২ হাজার ৪০০ টাকায় তিনি রায়ানস থেকে এসএসডিটি কিনেছেন। যেখানে রায়ানসের ইনভয়েসও দেখানো হয়েছে।  এসএসডিতে লাগানো স্যামসাংয়ের সিলভার কন্ট্রোলারটি স্টিকার লাগানো। স্টিকার তুললে নিচে দেখা যাচ্ছে, ভেতরে আরডিএস-৫৭৭২ ডিএল নামে একটা কন্ট্রোল দেওয়া, যা স্যামসাংয়ের নয়। বিষয়টি নিয়ে অনন্য জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালবেলাকে বলেন, বিশ্বজুড়ে স্যামসাংয়ের এসএসডি সবচেয়ে জনপ্রিয়। বাংলাদেশেও সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় স্যামসাংয়ের এসএসডি। বাজারে চাহিদা থাকার কারণে অনেকেই এই সুযোগটা নিয়ে নকল পণ্য বাজারজাত করে। জামান জানান, এই পণ্যটি যে নকল তা কোনো সাধারণ ক্রেতার বোঝার উপায় নেই। আমরা যারা এসব নিয়ে কাজ করি তারা ধরতে পারি। বুঝতে না পেরে মানুষ স্যাংসাংয়ের পণ্য মনে করেই এটি কিনছে। কিন্তু তারা বিরাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সতর্ক করে জামান বলেন, স্যামসাং এসএসডি-এর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ এটার নকল ভার্সন দেশে এনেছে। গত কয়েক মাসে গণহারে এটা ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়েছে। বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয়ের সতর্ক হওয়া উচিত। এসব নকল স্টিকার লাগানো এসএসডির দাম এবং পারফরমেন্স অর্ধেকও না। নিজের টাকা খরচ করবেন বুঝে করবেন, ব্যবসা করবেন নিজের সুনামের কথা চিন্তা করে করবেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রায়ানস কম্পিউটার্স লিমিটেডর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহমেদ হাসান কালবেলাকে বলেন, আমরা ভিডিওটা দেখেছি। সেখানে যেভাবে স্টিকারটি খোলা হয়েছে, সেভাবে কখনেই আমরা দেখি না। স্টিকার তুলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম যাচাই করেও বোঝার উপায় নেই। আমরা আসল পণ্য ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় কোনোটাই করি না। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে নকল পণ্য বিক্রির সুযোগ নেই। তারপরও বিষয়টি নিয়ে যাচাই বা তদন্ত করে বিস্তারিত জানাতে পারব।    
১৪ মে, ২০২৪
X