২৪ কেজির দাতিনা মাছ বিক্রি হলো সোয়া ১ লাখ টাকায়
বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়া দুটি দাতিনা মাছ এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর মৎস্য বন্দরে। মাছ দুটির ওজন হয় ২৪ কেজি ৬৫০ গ্রাম।  শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এমভি মায়ের দোয়া নামের একটি ট্রলারে জেলেরা মাছটি নিয়ে আসে মহিপুর মৎস্য বন্দরে। পরে দুপুর ২টার দিকে মৎস্য বন্দরের কুতুবদিয়া ফিস-এ মাছ দুটি বিক্রির জন্য ওঠানো হয়। এ সময় নিলামের মাধ্যমে মাছ দুটি কিনে নেয় মৎস্য পাইকার সজীব হোসেন। জানা গেছে এমভি মায়ের দোয়া ট্রলারে এ মাছ দুটি গত তিন দিন আগে গভীর সাগরে ধরা পড়ে। এ বিষয় ওই ট্রলার মাঝি লক্ষ্মী মিয়া বলেন, সচারাচর দাতিনা মাছগুলো তেমন একটা পাওয়া যায় না। আমরা সাগরে ইলিশের জাল ফেলেছিলাম তখন হঠাৎ দেখি বড় কোনো মাছ। প্রথমে ভেবেছিলাম কোরাল মাছ, পরে কাছাকাছি গিয়ে দেখি দুটি দাতিনা মাছ। মহিপুর কুতুবদিয়া ফিস-এর মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দাতিনা মাছ দুটির ওজন হয় ২৪ কেজি ৬৫০ গ্রাম। ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মণ হিসেবে অর্থাৎ কেজি প্রতি ৬ হাজার টাকা দরে দাতিনা মাছ দুটি বিক্রি হয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায়।  স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান বাপ্পি বলেন, মহিপুরে বিভিন্ন সময়ই বড় বড় মাছের দেখা মেলে। আমি ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা নিলামে বলেছি। কিন্তু আমার চাইতে ১০ হাজার  বেশি বলায় আরেক মৎস্য ব্যবসায়ী তা কিনে নেয়। মৎস্য পাইকার সবুজ হোসেন বলেন, দাতিনা মাছ মূলত সচারাচর ঘাটে তেমন একটা আসে না। আজ হঠাৎ দেখে ডাকের মাধ্যমে কিনে নিলাম। মাছ দুটি ৬ হাজার টাকা কেজি দরে কিনেছি। এখন বিক্রির জন্য ঢাকায় পাঠাব। আশা করছি ভালো দামে বিক্রি করতে পারব।  এ বিষয় কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, নদ-নদী এবং সাগরের কাছাকাছি এলাকায় এ প্রজা‌তির মাছ পাওয়া যায় না। এরা মূলত গভীর সাগরের মাছ। এ মা‌ছের ফুলকা বি‌দে‌শে রপ্তা‌নি করা হয়, যা দি‌য়ে ওষুধ তৈ‌রি করা হয়। মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দাতিনা মাছ তেমন একটা দেখা যায় না। তবে এ প্রজাতির মাছগুলো খুবই সুস্বাদু।
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
X