সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫, ১৭ চৈত্র ১৪৩২
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৫, ০৯:৪৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

জুমাতুল বিদার গুরুত্ব ও ফজিলত

পুরোনো ছবি।
পুরোনো ছবি।

আরবি শব্দ ‘জুমুআ’ শব্দটির বাংলা অর্থ হচ্ছে শুক্রবার। আর ‘বিদা’ শব্দের অর্থ শেষ। অর্থাৎ জুমাতুল বিদা অর্থ শেষ শুক্রবার। মাহে রমজানের শেষ জুমার দিনটি আমাদের সমাজে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত।

এরপরও মোবারক মাস রমজানের শেষ জুমার দিন হিসেবে এর গুরুত্ব কম নয়। রমজান আর জুমা একত্রে মিলিত হয়ে দিনটিকে করে তুলেছে সীমাহীন মহিমাময়।

রমজানকে বিদায় জানাতে এই দিনে মসজিদগুলোতে বিশেষ মোনাজাতের ব্যবস্থা থাকে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরাও মনে করে থাকেন রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানের মহিমা জুমাতুল বিদার মধ্য দিয়ে আরও বেশি মহিমান্বিত হয়। দিনটি মুসলিম বিশ্বের কাছে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। তবে এ দিনটি আল-কুদস দিবস হিসেবেও পালিত হয়।

রমজানের শেষ জুমা হিসেবে মুসলিম উম্মাহর কাছে দিনটির বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। জুমার দিনের স্বতন্ত্র ফজিলত অনেক বেশি। শুক্রবারকে মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

রমজানের প্রতিটি জুমা ফজিলত ও তাৎপর্যের দিক থেকে অনন্য। বিদায়ী জুমা হিসেবে জুমাতুল বিদার মর্যাদা ও ফজিলত আরও বেশি। পবিত্র কোরআনে জুমার নামাজ আদায়ের তাগিদ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

অর্থ : হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি কর। (সূরা আল জুমুআহ, আয়াত : ৯)

প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জুমার নামাজ ফরজ। জুমার দিন ও রাত উভয়টিই ফজিলতপূর্ণ। জুমার দিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন দোয়া করলে সরাসরি তা কবুল হয়। ধারণা করা হয়, সে মুহূর্তটি আসর থেকে মাগরিবের মাঝামাঝি কোনো সময়। এ ছাড়া দুই খুতবার মাঝামাঝি সময়টিও দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত বলে হাদিসে উল্লেখ আছে।

জুমার দিন মুমিন মুসলমানদের ঈমানি সম্মেলন হয়। এ দিনের তাৎপর্য বর্ণনা করে রাসূল (সা.) বলেছেন, সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে জুমাবার সর্বাধিক মর্যাদাবান ও নেতৃস্থানীয় দিন। এই পুণ্য দিনে আদি পিতা হজরত আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়। একই দিনে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। আবার পুনরায় পৃথিবীতে আগমন করেন। এ দিনে তার ইন্তেকাল হয়। এ শুক্রবারেই কেয়ামত সংঘটিত হবে। এ পুণ্য দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুল হয়। (মিশকাত)

রমজান মাসের শেষ শুক্রবার হজরত সুলায়মান (আ.) জেরুজালেম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন এবং মুসলমানদের প্রথম কিবলা ‘মসজিদ আল-আকসা’ প্রতিষ্ঠা করেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়। এ জন্য প্রতি বছর সারা বিশ্বের মুসলমানরা রমজান মাসের শেষ শুক্রবার ‘আল কুদস’ দিবস হিসেবে উদযাপন করেন। বায়তুল মোকাদ্দাস ইহুদিদের অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করার দাবি জানান।

জুমাতুল বিদার মহত্ত্ব : দু’টি কারণে জুমাতুল বিদা অত্যন্ত মহিমাময়। (১) মাহে রমজানের কারণে : রমজান মাস সীমাহীন ফজিলতের মাস এবং এটি উম্মতে মোহাম্মাদীর জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ উপহার স্বরূপ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই তোমাদের রব বলেছেন, বনি আদমের প্রত্যেকটি নেক-আমলের সওয়াব দশগুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত দেওয়া হয় শুধু রোজা ছাড়া। কেন না রোজা শুধুই আমার জন্য, আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।

আর নিশ্চয়ই রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশ্ক আম্বারের চেয়েও বেশি প্রিয়। তোমাদের কারও রোজা থাকা অবস্থায় যদি কেউ তার সঙ্গে জাহেলের মতো আচরণ করে তাহলে সে বলে দেবে, আমি একজন রোজাদার। (সহিহ আল-বোখারি, হাদিস: ৫৯২৭, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৫১, মুসান্নেফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ৮৮৯৪, মুসনাদে আহমাদ: ৯৭১৪)।

আর জুমার দিনের মাহাত্ম্য সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূর্যদয়ের মাধ্যমে যে দিনগুলো হয় তার মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন।

করণীয় : জুমার দিনের কিছু সুন্নত আমল রয়েছে। সেগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো-

১. সাবান দিয়ে ভালো করে গোসল করতে হবে।

২. নতুন বা উত্তম পোশাক পরতে হবে।

৩. আতর তথা সুগন্ধি ব্যবহার করতে হবে।

৪. হেঁটে মসজিদে যেতে হবে।

৫. আগে আগে মসজিদে প্রবেশ করতে হবে।

৬. ইমামের কাছাকাছি জায়গায় বসতে হবে।

৭. ইমামের খুৎবা মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে।

৮. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করতে হবে।

৯. কাউকে কষ্ট দেওয়া যাবে না, কোনো অনর্থক কাজ করা যাবে না।

হজরত আওস ইবনে আওস আস-সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জুমার দিনে ভালো করে গোসল করবে এবং আগে আগে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাবে এবং ইমামের কাছাকাছি বসে খুৎবা মনোযোগ সহকারে শুনবে আর কোনো রকম অনর্থক কাজ করবে না, তাকে তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে লাগাতার এক বছর নামাজ ও রোজার সওয়াব দান করা হবে। (সুনানে ইবনে মাযা, হাদিস: ১০৮৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫, আস্-সুনানুল কুবরা, হাদিস: ১৭০৩, সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ১৩৮৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৬১৭৬, সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ২৭৮১)

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা প্রধান উপদেষ্টার

আজ ঈদুল ফিতর, কেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া

জাতীয় ঈদগাহে নামাজ পড়বেন প্রধান উপদেষ্টা

বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত

৩১ মার্চ : ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল 

৩১ মার্চ : আজকের নামাজের সময়সূচি

পটুয়াখালীতে আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে নিহত ১

তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজের বাবার ওপর হামলা

শিশু আছিয়ার পরিবারকে অর্থসহায়তা দিলেন তারেক রহমান

টাঙ্গাইলে ঈদের দিন ঈদগাহে ১৪৪ ধারা জারি

১০

ঈদুল ফিতরের দিন শহীদ জিয়ার মাজার জিয়ারত করবে বিএনপি

১১

সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

১২

অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের সেই ম্যুরাল ভেঙে ফেলল জেলা প্রশাসন

১৩

বরিশালে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায়

১৪

বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাত, ইমাম থাকবেন যারা

১৫

মেয়ে-নাতিনিদের নিয়ে ঈদ করা হলো না কুলছুমার

১৬

কুমিল্লায় চাঁদরাতে ঈদ র‍্যালি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা 

১৭

ইরানে ‘বোমা হামলার’ হুমকি ট্রাম্পের

১৮

দুই সহস্রাধিক পরিবারকে ‘ঈদ উপহার’ তারেক রহমানের

১৯

নির্বাচনের রোডম্যাপ না দেওয়া রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা : মির্জা ফখরুল

২০
X