মাফ চেয়ে আঁকুতি জানিয়েও রেহায় পাওয়া যাচ্ছে না। যাকে যেভাবে পাচ্ছে বেদম পেটাচ্ছে কিরগিস্তানিরা। প্রাণ বাঁচাতে আর অমানুষিক নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে এক বাংলাদেশি লুকিয়ে ছিলেন খাটের নিচে। কিন্তু সেখানেই একের পর এক কিল-ঘুষি আর লাথি মারতে থাকেন নির্যাতনকারীরা। শুধু বাংলাদেশিই নয়, ভারত, পাকিস্তান, মিসরসহ বিদেশি সব শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে চোরের মতো পেটানো হচ্ছে।
নির্যাতনের বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়- আহত অবস্থায় পড়ে আছেন অনেকে, অনেকে আবার নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দিচ্ছেন। বেশির ভাগই চলে গেছেন আত্মগোপনে। তারপরও রেহাই নেই। হোস্টেল, মেস এবং বাসাবাড়িতে খুঁজে খুঁজে বিদেশিদের পেটানো হচ্ছে।
এক ভিডিওতে দেখা গেছে, রাস্তায় ফেলে কয়েকজন মিলে একজনকে টানা পিটিয়েও ক্ষান্ত হচ্ছে না। কুকুরের মতো টেনেহেঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, রক্তাক্ত করা হচ্ছে যাকে পাওয়া যাচ্ছে তাকেই। যেন হায়েনার মতো হিংস্র হয়ে উঠেছে কিরগিস্তিনিরা।
কিন্তু কেন তারা এমন করছে তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া না গেলেও জানা যাচ্ছে, মিসরীয় কয়েকজন মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকেই তাদের তাণ্ডব শুরু।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের কোন পদক্ষেপই কাজে আসছে না। সব নিরাপত্তাকে গুরুত্ব না দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে তারা। বিশেষ করে পাকিস্তানিদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেশি বলে জানা গেছে।
এমন বর্বর হামলার প্রতিবাদে, রাস্তায় নেমে বেশকিছু পাকিস্তানিকে বিক্ষোভ করতেও দেখা গেছে। দেশটিতে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশিদের সহায়তায় কাজ করছে, উজবেকিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অনেক বাংলাদেশি বাঁচার আকুতি জানিয়ে বলছেন, তারা দুই দিন ধরে কিছুই খাননি। অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। বাইরে বের হলেই তাদের পিটিয়ে হত্যা করা হতে পারে এমন শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
বাংলাদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অনেকে বলছেন, তারা এমন পরিস্থিতিতে থাকতে পারছেন না। যে কোন মূল্যে দেশে ফিরতে চান। দিন দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। যদিও কিরগিস্তানের রাজধানীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তারপরও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না।
মন্তব্য করুন