বর্তমান সংবিধান ও রাজনৈতিক বন্দোবস্ত অকার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির।
শনিবার (৫ এপ্রিল) রাতে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার আলীশ্বর উত্তর বাজারে বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, গত ৫৪ বছরে একটি নিকৃষ্ট সংবিধান বাংলাদেশের মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতো নিকৃষ্ট সংবিধান পৃথিবীর আর কোনো দেশে আছে বলে আমার জানা নেই। এই সংবিধানের আলোকে কেউ এক শতাংশ ভোট না পেয়েও প্রধানমন্ত্রী হতে পারে, মন্ত্রী হতে পারে, এমপি হতে পারে, উপজেলা চেয়ারম্যান হতে পারে, ইউপি চেয়ারম্যান হতে পারে, মেম্বার হতে পারে। এ সংবিধানের কারণে তারা বৈধ ভাবেই থাকতে পারে৷ ভোট না পেয়েও একজন গত ১৭ বছর প্রধানমন্ত্রী থেকে গেছে। তাহলে-কী এই সংবিধান জনগণের জন্য? এতে বুঝা গেল, বর্তমান সংবিধান অকার্যকর। আর যে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত রয়েছে সেগুলোও কার্যকর নয়। যদি কার্যকর হতো তাহলে রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সরকার পতন করা যেতো।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনুসের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকার যতই দিন যাচ্ছে ততই জনপ্রিয় হচ্ছে। আস্তে আস্তে দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে, আস্তে আস্তে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজদের মনে ভয়ে কাঁপুনি ধরছে, আস্তে আস্তে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের মান মর্যাদা উঁচু থেকে উচ্চতর অবস্থানে পৌঁছাচ্ছে। এই রমজানে লোডশেডিং এর সমস্যা হয়নি। এতে প্রমাণ করে ছাত্ররা যাঁকে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা ভুল সিদ্ধান্ত নেয়নি।
শিশির বলেন, এখন বাংলাদেশের মানুষ বলছে ড. ইউনূসকে এদেশের জনগণের জন্য ৫ বছর থাকা উচিত। কেউ কেউ বলছেন গণভোট দিয়ে উনাকে আবার নির্বাচিত করা উচিত। অনেকে বলছে আমরা ড. ইউনূসের পক্ষে আছি গণভোটের মাধ্যমে তা প্রমাণ করব। অনলাইনের মাধ্যমে মানুষ বলছে দেশের ৭৫-৮০ শতাংশ লোক ড. ইউনূসের পক্ষে। আমার মনে হয়, আমরা যদি ড. ইউনূসকে আরও কিছুদিন সুযোগ দিতে পারি, সকাল বিকাল ডিস্টার্ব (বিরক্ত) না করি তাহলে আগামী ৮-১০ বছরে বাংলাদেশ এশিয়ার বড় একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
সাংগঠনিক আলোচনা করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, তরুণদের দল হলো এনসিপি। এই দলের পরিচালনাও করবে তরুণরা। আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারা এনসিপি সম্পর্কে জানুন, প্রশ্ন করুন। বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক দল গঠনের আগে জনমত জরিপ, মানুষের মন্তব্য, প্রত্যাশা এনসিপি ছাড়া অন্য কেউ নিয়েছে বলে আমার জানা নেই। সকলের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে দল পরিচালনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই আসুন আমরা সবাই এনসিপির ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত, দখলবাজমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলি।
এনসিপির এ নেতা বলেন, আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে আমাদের দলের নাম নাগরিক পার্টি কেন? জনতা পার্টিওতো দেওয়া যেত। আমরা বিশ্বাস করি বিগত ৫৪ বছরে এদেশের কোনো মানুষ নাগরিক হয়ে উঠতে পারেনি। এদেশের মানুষ কোনো না কোনোভাবে দাস হয়ে ছিল। যেমন আমরা ব্রিটিশদের দাস ছিলাম, পাকিস্তানের কাছে আবব্ধ ছিলাম, ৫৪ থেকে ২৪ পর্যন্ত ভারতের একটা কলোনিই ছিলাম, নাগরিক ছিলাম না৷ এই প্রথম ২৪ এর পরবর্তীতে একটা সময় হয়েছে নাগরিক হয়ে উঠার। নাগরিকের সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার, নাগরিকের স্বাদ পাওয়ার, আমরা এজন্য দলটির নাম রেখেছি জাতীয় নাগরিক পার্টি। এই বাংলাদেশকে নাগরিক পার্টি একদিন নেতৃত্ব দিবে। ইনশাল্লাহ।
এনসিপি নেতা মাইন উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও খন্দকার ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব শাকিল আহম্মেদ, এনসিপি নেতা জালাল আহমেদ, আবুল কাশেম, হেলাল আহমেদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লালমাই উপজেলা শাখার আহ্বায়ক নোমান হোসেন ও জুলাই আন্দোলনে পুলিশের ছোররা গুলিতে আহত মেহেদী হাসান শুভ । পরে জুলাই বিপ্লবে শহিদদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন এনসিপি নেতা কবির আহমেদ।
মন্তব্য করুন