একটি গোষ্ঠী সংস্কারের নামে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক।
একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত সময়ের ভিতরে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করা। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই দেশে পরিপূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে।
শনিবার (২৯ মার্চ) দিনব্যাপী রাজধানীর পল্লবী, গুলশান, বাড্ডা ও খিলক্ষেতসহ ৯টি স্থানে আয়োজিত ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান আমিনুল হক।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এ সময় গরিব অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ উপহার তুলে দেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশে আবারও নতুন করে একটি অস্থিতিশীলতা তৈরি করার জন্য একটি চক্র কাজ করে যাচ্ছে। তবে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে কোন ষড়যন্ত্র আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।
আমিনুল হক বলেন, একটি মহল সংস্কারের নামে নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। আমরা আরও শুনছি স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত নাকি নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা তো পালিয়ে গেছে। তাকে তো বাংলাদেশে আনতে হবে। তার যে অবৈধ মন্ত্রী-এমপিরা ছিল যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তাদেরও দেশে এনে বিচার প্রক্রিয়ায় আনতে হবে।
এ সময় তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, তাদের যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে না আনা যাবে! তাহলে কি নির্বাচন হবে না বাংলাদেশে? এটা তো হতে পারে না? সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া- এটা যুগের পর যুগ চলতে থাকবে। কিন্তু সংস্কারের নামে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ফাঁসি আমরাও চাই। গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপরে যে পরিমাণ জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন হয়েছে; আমাদের ওপরে যেভাবে হয়রানি ও শারীরিকভাবে নির্য়াতন করা হয়েছে- এ দেশের অসহায় মানুষের ওপরে যেভাবে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করা হয়েছে- সেই স্বৈরাচারের বিচার এবং স্বৈরাচারের ফাঁসি আমরাও চাই। কিন্তু স্বৈরাচারের বিচারের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। একটি মহল, একটি গোষ্ঠী- তারা সংস্কারের সঙ্গে নির্বাচনকে মিলিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। এটা এ দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে না।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারের বিচার এবং নির্বাচন এ দুটিকে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলবেন না। কারণ বাংলাদেশের মানুষের ভাষা বুঝতে হবে। জনগণ কি চায়? জনগণের ভাষা বুঝে আপনাদের কাজ করতে হবে। এ দেশের জনগণ চায় বাংলাদেশে যেন একটা সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিবেশ তৈরি হয়। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমাদের এগোতে হবে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা রমজান মাসব্যাপী সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ইফতার মাহফিল করেছি। এটা বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য না। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য না, কিংবা ভোটের রাজনীতির জন্য না। আমরা কাজ করছি আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে। কারণ সাধারণ মানুষকে নিয়েই বিএনপির রাজনীতি। দেশের মানুষ অবগত আছে জাতির সব ক্রান্তিলগ্নে বিএনপি সব সময় এ দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বাড্ডার বেরাইদে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্তব্য করুন