জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
নিবন্ধন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বুধবার (১৯ মার্চ) বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি ফয়েজ আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
আদালতে জাগপার পক্ষে শুনানি করেন দলটির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইয়াছিন খান। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান। এই রায়ের ফলে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) নিবন্ধন ফিরে পেল বলে জানান দলটির আইনজীবীরা।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল শফিউল আলম প্রধান এর নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী ২০০৮ সালের ২০ নভেম্বর জাগপা নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন লাভ করে। একযুগেরও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ২০২১ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন জাগপার নিবন্ধন বাতিল করে। প্রায় ৪ বছর ২ মাস পরে জাগপা নিবন্ধন ফিরে পেল।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, মহান রাব্বুল আল আমিনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আমরা আমাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেয়েছি। দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে জাগপার সংগ্রাম চলবে।
তিনি আরও বলেন, জাগপার নিবন্ধন বাতিলের ২০২১ সালের ইসির সিদ্ধান্ত আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। অর্থাৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে জাগপাকে ইতোপূর্বে ইসির দেওয়া নিবন্ধন বহাল থাকছে।
জাগপা সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, নিবন্ধন বাতিলের পক্ষে তৎকালীন ইসি কাগজে-কলমে যেই কারণই দেখাক না কেন, মূল কারণ ছিল জাগপার রাজনীতি, আধিপত্যবাদ এবং আগ্রাসনবিরোধী অবস্থান। তাই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নির্দেশনায় জাগপার নিবন্ধন বাতিল করা হয়। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং আগ্রাসনমুক্ত বাংলাদেশে সত্যের জয় হয়েছে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের এবং লড়াকু সৈনিকদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি এবং জাগপা তার রাজনৈতিক অধিকার নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে।
মন্তব্য করুন