ড. কে. এম. মহিউদ্দিন
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:০৯ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও নির্বাচন সহিংসতামুক্ত হয়েছে

ড. কে. এম. মহিউদ্দিন। ছবি : সৌজন্য
ড. কে. এম. মহিউদ্দিন। ছবি : সৌজন্য

ইতোপূর্বে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত যে কোনো নির্বাচনের তুলনায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা কম ঘটছে- যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে নব্বই পরবর্তী অন্যান্য সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি কম এবং পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি কম। তরুণ ভোটাররা কেন ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেনি সেটা খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

নির্বাচনে ভোটরদের উপস্থিতি কম হওয়ার পেছনে একাধিক ফ্যাক্টর কাজ করেছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরোধী দলের ব্যাপক প্রচারণা, নির্বাচনে সহিংসতা বা গুপ্ত হামলা হতে পারে-এমন সম্ভাবনা ভোটারদের মনোজগতে প্রভাব বিস্তার করে থাকতে পারে। এই নির্বাচনে বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল অংশগ্রহণ করলে নির্বাচনের পরিবেশ অন্য রকম হতে পারেতা।

বিএনপি দাবি করে তাদের প্রচার-প্রচারণা এবং ডাকে সাড়া দিয়ে ভোটারগণ ভোট দিতে যায়নি। আমি তাঁদের এই বক্তব্যের সাথে ভিন্ন মত পোষণ করি। আমি মনে করি, বিগত বছরগলোতে দেশের রাজনৈতিক নেতাদের ভুল কর্মসূচী, মিথ্যা আশ্বাস এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক দলগুলোর নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তরুণরা রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়ছে। এর দায়ভার সকল রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের। নাগরিকদের মধ্যে রাজনীতি সর্ম্পকে ইতিবাচক মনোভাব তৈরী করতে না পারলে আগামীতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের ইতিবাচক পরিবর্তনম ঘটার সম্ভাবনা কম।

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, নতুন সরকার গঠিত হবে। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে- এমনটি বলা যাবে না। সামনের দিনগুলোতে অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির উপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশী সংস্থা বা অন্য কোনো দেশের সরকার কী করবে কী বলবে তার চেয়েএই দেশের মানুষের প্রত্যাশাকে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে সেগুলো সফলভাবে মোকাবেলা করার জন্য রাজনৈতিক সমঝোতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

আমরা জানি নির্বাচন সরকার বদল করার একটি প্রক্রিয়া। জনগণ ভোট দিয়ে তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকার গঠন করে। নির্বাচন যদি সুষ্ঠূ না হয় তবে সরকার গঠনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনা এবং সরকারের সাথে জনগণের দূরত্ব তৈরী কর। সুশাসনের জন্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আগামীতে তরুণদেরকে রাজনীতিমূখী করতে হবে। আর তা না হলে নুতন নেতৃত্ব তৈরী হবে না, দেশে নেতৃত্বের সংকট সৃষ্টি হবে। নির্বাচন কমিশনকে আইনে যে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে তাদেরকে সেটা সাহসের সাথে প্রয়োগ করতে এগিয়ে আসতে হবে।

নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি নাগরিকদের আস্থাহীনতা দূর করতে হবে। নাগরিকরা যদি ক্রমাগত নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে সেটা দেশের জন্য ইতিবাচক নয়। পৃথিবীর কিছু দেশ রয়েছে যেখানে নির্বাচনে ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

ড. কে. এম. মহিউদ্দিন : প্রফেসর, সরকার রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি

সারাদেশে তীব্র বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টিসহ কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা

১১ মাস পর ‘গেমঘর’ থেকে বাড়ি ফিরলেন লোকমান

কেরানীগঞ্জে ফোম কারখানায় আগুন

ঝালকাঠিতে যুবদল নেতাসহ ১৩ জনকে কুপিয়ে জখম

ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক / ‘বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে’

সংস্কার ও নির্বাচন প্রশ্নে যা বললেন আখতার

ধলেশ্বরী নদীতে সেনা অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ১৬

‘জুলাই-আগস্টের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে’

গাজীপুরে ট্রেনে আগুন, দুই ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক

১০

নারী সাংবাদিককে হেনস্থা, গ্রেপ্তার ৩

১১

ধামরাইয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ১

১২

নারী বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আম্পায়ারিংয়ে থাকছেন জেসি-মুকুল

১৩

পরমদা দারুণ চুমু খায়:  কৌশানী

১৪

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

১৫

বিমসটেক সম্মেলনে কর্মসূচি জানিয়ে মোদির পোস্ট

১৬

চ্যাম্পিয়ন্স কাপে হারের মুখ দেখল মেসির মায়ামি

১৭

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লার যুবক নিহত

১৮

বৃষ্টি ও তাপমাত্রা নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অফিস

১৯

বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্কারোপ কতটা প্রভাব ফেলবে

২০
X