কবি আল মাহমুদের বাড়িতে স্মৃতি জাদুঘর ও ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কবি আল মাহমুদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কালের কলসের আয়োজিত ‘বিপ্লব বসন্তে আল মাহমুদ’ নামে এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, পরিবারের সম্মতি পেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবি আল মাহমুদের বাড়িতে স্মৃতি জাদুঘর ও ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। কবি আল মাহমুদ বাংলা সাহিত্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার রচনা বাড়ি স্মৃতি আগামী প্রজন্মের জন্য রাখা ও ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। এই বিষয় আমাদের আগ্রহ আছে, ধীরে গতি হলেও এমন কাজ হয়। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার এই কাজটি গুরুত্ব দিয়ে করবে।
তিনি বলেন, কলকাতার হেজিমনির মধ্যে লেখালেখি শুরু করেছিলেন আল মাহমুদ। চার দশক ধরে আল মাহমুদকে নিয়ে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদিদের কথিত মেইন স্ট্রিম সাহিত্যে উঠতে না দেওয়ার পেছনে ছিল রাজনীতি। আল মাহমুদ কোনো রাজনৈতিক দলের নন তিনি পুরো বাংলা ভাষার।
কবি আবদুল হাই শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আল মাহমুদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্তমূলকভাবে হাজির হয়েছে। তার চিন্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। জুলাই আন্দোলনে প্রমাণ হয়েছে আমরা ঘুমিয়ে নেই। জেগে আছি দেশের যে কোন সংকট মোকাবিলা করব সম্মিলিতভাবে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে শক্তিশালী করলে আমাদের এমন কাজগুলো সহজ হবে।
ফরহাদ মজহার বলেন, ’২৪ এর বিপ্লব যেন বেহাত না হয় এজন্য সাংস্কৃতিক লড়াই অবধারিত, এই লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে শিল্পী, কবি, সংস্কৃতিকর্মীদের। সভাপতির বক্তব্যে কবি আবদুল হাই শিকদার অবিলম্বে কবি আল মাহমুদের কবর রাষ্ট্রীয়ভাবে সংস্কারের দাবি জানান। কবির মৃত্যুর পর তাকে শহীদ মিনারে আনতে না দেওয়া এবং গণকবরে দাফন করা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান না জানানোর কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন একুশে পদকজয়ী আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন, জাতীয় কবিতা পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক কবি শাহীন রেজা, জাকির আবু জাফর, ড. কুদরত ই হুদা, ড. কাজল রশীদ শাহীন, ইতিহাসবিদ আশরাফুল ইসলাম, কবি ইমরান মাহফুজসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে আল মাহমুদের গান পরিবেশন করেন শিল্পী আমিরুল মোমেনিন মানিক ও জান্নাতুন নাঈম পিংকী। কবিতা আবৃত্তি করেন শিমুল পারভীন, কামরুল হাসান জুয়েল, মুক্তা বরমন, ফারাহ দোলন, কঠোর হাসান, মুসা আখন্দ, এম তারেক হাসিব ও মনিরুজ্জামান পলাশসহ আরও অনেকে।
এর আগে কবি ও আবৃত্তিশিল্পী শাকিল মাহমুদ ও মুশফিকা নিপার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
পরে কালের কলস সম্পাদক কবি আবিদ আজম তার স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে কবির প্রয়াণ দিবস পালন না করায় ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী সময়ে আল মাহমুদকে তুমুল অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করা হয়েছে। অবিলম্বে পাঠ্যপুস্তকে আল মাহমুদের কবিতা পুনর্বহালের দাবি জানান তিনি। ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অমরত্বের পথে হারিয়ে যান কবি আল মাহমুদ।
মন্তব্য করুন