হাসান (২১)। একজন ইয়াতিম। বাবা মারা গেছেন বেশ আগেই। পড়াশোনা করানোর মত কেউ ছিলো না। কিন্তু নিজের অদম্য উৎসাহে হিফজ সম্পন্ন করে হাফেজ হন। কম বয়সে সংসারের ঘানি তার কাঁধে পড়ে। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল থেকে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম যান। সেখানে মা গার্মেন্টসে চাকরি নেন। কিন্তু ২ মেয়ে ও ১ ছেলেকে নিয়ে বিপদে পড়েন তিনি। তাদের পড়াশোনা করাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি।
মায়ের এ বিপদ থেকে উদ্ধার করেন হাসান। নিজে থেকে মাকে বলেন তাকে পড়ানোর দরকার নেই। স্কুলে ভর্তি হলেও পড়াশোনা বন্ধ করে দেন হাসান। সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের কাজ শিখতে থাকে হাসান। কাজে গেলেও মন পড়ে থাকে স্কুল-কলেজে। কাজ শেষ হলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন। ছাত্র আন্দোলনে বন্ধুদের সঙ্গে তিনিও যোগ দেন। ৪ আগষ্ট আওয়ামী-ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত করতে নামে। এদিন হাসানের মাথায় গুলি লেগে মাথার হাড় ভেঙ্গে যায়।
হাসানের বন্ধু মো. জাকির বলেন, ৪ আগষ্ট সকাল ১০ টায় হাসানসহ আমরা বন্ধুরা নিউমার্কেট থেকে আন্দোলন শুরু করি। ধীরে ধীরে আমরা এগিয়ে টাইগার পাশ মোড়ে আসি। আমাদের সামনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা চলে আসে। আমরা পালিয়ে আসি। পেছনে থেকে ছাত্রলীগ আক্রমণ করে। আমার পাশে ছিলো হাসান। আমার বাসা ছিলো পাশেই। আমি ও হাসান দৌড় দেই। আমি কিছুটা এগিয়ে যাই। বাসায় ঢুকে দেখি হাসান সঙ্গে নেই। বাসা থেকে বের হয়ে দেখি হাসান মাটিতে পড়ে আছে। ওকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হকিস্টিক দিয়ে পেটাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর ওরা চলে গেলে আমি কাছে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখি। দেখি গুলি লেগে তার মাথার হাড় ভেঙ্গে গেছে। ব্রেনের কিছু অংশ রাস্তায় পড়ে আছে। কতটা পশু হলে মানুষকে এভাবে মারা যায়। দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করাই। সেখানে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। ৫ তারিখে তার অপারেশন হয়। ৩ সেপ্টেম্বর তাকে সিএমএইচে আনা হয়। চিকিৎসায় উন্নতি না হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে হাসানের ছোট বোন সুবর্ণা বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। দেশবাসীর কাছে আমরা দোয়া চাই। হাসান জেনো দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮ টায় হাসানকে নেওয়ার জন্য থাইল্যান্ড থেকে এয়ার এম্বুলেন্স আসে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে বহনকারী এয়ার এম্বুলেন্স ঢাকা ছেড়ে যায়।
মন্তব্য করুন