বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উঁচু মাত্রায় পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উঁচু মাত্রায় পৌঁছেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-গবেষণা, সংস্কৃতি, যোগাযোগসহ সকল ক্ষেত্রে দুই দেশের এ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে।
রোববার (২০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে চীনের ইউনান প্রদেশ ও বাংলাদেশস্থ চীন দূতাবাসের উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় ‘চীন-বাংলাদেশ পিপল-টু-পিপল এক্সচেঞ্জ ইয়ার : ইউনান এডুকেশন অ্যান্ড হেলথ প্রমোশন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সহআয়োজক ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
অনুষ্ঠানে চায়নিজ নাগরিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় চীনের ইউনান প্রদেশের লোক সংগীত ‘ছোট নদী বয়ে চলে...’। একই সঙ্গে গাওয়া হয়, ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর...’ গানটিও।
এ সময় ‘চায়না-সাউথ এশিয়া ইউথ এক্সচেঞ্জ উইক’ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হয়। সিনেট ভবনের মিলনায়তনের বাইরে ইউনান প্রদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ১৭টি বুথ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রদর্শনী করে।
চিকিৎসা গবেষণা ও প্রশিক্ষণকে এগিয়ে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সঙ্গে চীনের ইউনান পিকিং ক্যান্সার হাসপাতাল এবং কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবার কল্যাণ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, এ প্রোগ্রাম আমাদের ৫০ বছরের জনগণের সঙ্গে জনগণের বন্ধুত্বকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশ ও চীনের স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি ভালো সুযোগ। তিনি বাংলাদেশের জন্য চায়নার ফার্মাসিটিক্যালস, মেডিকেল ইকুইপমেন্টসহ অন্যান্য সহায়তা অনেক জরুরি বলে মন্তব্য করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চায়নার সহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আমরা দুই হাজার মানুষকে হারিয়েছি। বিপুল পরিমাণ আহত হয়েছে। চীন সরকারের কাছে আমরা এ সংক্রান্ত সহায়তা চাইলে তারা এগিয়ে আসে। চায়নিজ মেডিকেল টিমের প্রথম দল ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দেশে আসে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে আমাদের আহতদের সহায়তা প্রদান করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ৫০ বছরের নয়, ঐতিহাসিকভাবে এই সম্পর্ক দুই হাজার বছরের পুরোনো। আমরা দুই দেশের মধ্যে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি আরও বাড়াতে চাই। আমরা মনে করি ইউনান প্রদেশ আমাদের পরিবারের অংশ। আমি আশা করি এ আয়োজনটি একটি নতুন চ্যাপ্টারের উন্মোচন করেছে। এটি আমাদের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে উল্লেখ করেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চীনের শীর্ষ স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। যা যৌথ গবেষণা, ফ্যাকাল্টি এবং শিক্ষার্থী বিনিময়ের পথ প্রশস্ত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আজ আরেকটি মাইলফলক তৈরি হয়েছে। চিকিৎসা গবেষণা ও প্রশিক্ষণকে এগিয়ে নিতে আমরা ইউনান ক্যান্সার হাসপাতালের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, চীনের ইউনান প্রদেশের গর্ভনর ওয়াং ইউবো প্রমুখ।
মন্তব্য করুন