ঝিনাইদহ সদর উপজেলার অচিন্তনগর গ্রামের ৫ বছরের শিশু মনিরা হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৩ জুলাই) ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নাজিমুদ্দৌলা এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- অচিন্তনগর গ্রামের আছালত মন্ডলের ছেলে জাফর মন্ডল (৪২), মৃত খয়বার বিশ্বাসের ছেলে শিপন (৪০), কুদ্দুস মুন্সীর ছেলে মিন্টু মুন্সী (৪০) ও মুজিবার মোল্লার স্ত্রী নূপুর (৪০)।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশারত হোসেন খোকন জানান, ২০১৫ সালের ৭ জুলাই সদর উপজেলার অচিন্তনগর গ্রামের রমজান আলীর ৫ বছর বয়সী কন্যা মনিরা খাতুনকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা শিশুটির বাবার কাছে মুক্তিপণ দাবি করলে ১১ জুলাই সদর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরদিন তার বাড়ির পাশের পাট ক্ষেত থেকে শিশু মনিরার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ওই মামলার অভিযুক্ত একই গ্রামে জাফর, শিপন, মিন্টু ও নূপুর বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারদণ্ড প্রদান করেন। মামলার অন্য আসামিদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সংবাদ সম্মেলন করে মাদকাসক্ত ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা
মামলা সূত্রে জানা যায়, এই মামলার প্রধান আসামি আবু জাফরের সাথে মনিরার পিতা রমজান আলীর বিরোধ ছিল। বিরোধকে কেন্দ্র করে মনিরাকে অপহরণ করে তারা। এরপর তারা মনিরার পিতার কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পেয়ে তারা নৃশংসভাবে শিশু মনিরাকে হত্যা করে। হত্যার পর শিশু মনিরার হাত পা কেটে এসিড দিয়ে ঝলসানো হয়। কারা কারা এই খুনের সাথে জড়িত সেই তথ্যও পুলিশকে জানায় আসামি আবু জাফর। ওই ঘটনায় সে সময় পুলিশ জিহাদ নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে। টাকার লোভে মনিরাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অচিন্তনগর গ্রামের মজিবর রহমানের স্ত্রী নূপুর খাতুনের হাতে তুলে দেয় জিহাদ। নূপুর শিশু মনিরাকে একই গ্রামের আশাফুল, মোশাররফ ও জাফরের হাতে তুলে দেয়।
মন্তব্য করুন