কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন সংলগ্ন বাজার থেকে ৩৪৮ মণ ভিজিএফের চাল উদ্ধার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের পাশে বাজারের কয়েকটি দোকানঘরে অভিযান চালিয়ে এসব চাল জব্দ করা হয়।
সরকারি সিল সংবলিত পাটের এবং প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা প্রায় ২৭৯ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। প্রতি বস্তায় প্রায় ৫০ কেজি করে চাল ছিল। মোট চালের পরিমাণ ৩৪৮ মণ।
ইউপি সচিব আতাউর রহমান মন্ডল, ট্যাগ অফিসার আবুল হোসেন এবং মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ আলম স্বাক্ষরিত একটি তালিকায় দেখা গেছে জব্দকৃত ১২২ বস্তা চাল পরিষদের স্টোরে জমা করা হয়েছে। বাকি ১৫৭ বস্তা চাল দোকান ঘরে রেখে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা উপজেলা দারিদ্র্যবিমোচন কর্মকর্তা আবুল হোসেন কালবেলাকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন উপস্থিত না থাকায় আমি পৌঁছার আগেই মাসুদ নামে এক যুবক চাল বিতরণ শুরু করেন। একটি ভ্যানে করে চালের বস্তা নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা আটক করে। খবর পেয়ে ইউএনও ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাজারে অভিযান চালিয়ে গোডাউন সদৃশ দোকান থেকে চালগুলো জব্দ করেন। উদ্ধারকৃত চালগুলো সরকারি সিল সংবলিত প্লাস্টিক এবং পাটের বস্তায় ছিল।
৪ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শাহ আলম বলেন, আজ বর্তমান আনোয়ার হোসেন চেয়ারম্যান পরিষদে উপস্থিত ছিলেন না। চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই মাসুদ ও সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আনু ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণ করছিলেন। এক ছেলে ভ্যানে করে সরকারি চাল নিয়ে যাওয়ার সময় জনগণ আটক করেন। পরে বাজারের দোকানঘরে তল্লাশি চালিয়ে মোট ২৭৯ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। চাল উদ্ধারে সহায়তা করায় সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আনু ও তার ভাই রুহুল আমিন পরিষদের ভেতরে নিয়ে আমাকে মারধর করেছেন।
মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে, তিনি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটে যে ফোন নম্বর দিয়েছেন সেটি কখনো খোলা রাখেন না। এ ছাড়া সাবেক চেয়ারম্যানকেও ফোনে পাওয়া যায়নি।
চাল জব্দের ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর আহমেদকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যারাই এ কাজের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মন্তব্য করুন