গাজীপুরের কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এম এ জলিলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ডিত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১২ জুন) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার অন্যজন হলেন ২ নম্বর আসামি ফায়জুদ্দিন।
জানা গেছে, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের অধীন উজুলি দিঘিরপাড় এলাকাযর অস্থায়ী পশুর হাট নির্ধারিত জায়গার বাইরে এবং কাপাসিয়া-টোক-কিশোরগঞ্জ (ঢাকা-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের) ওপর সম্প্রসারণ করা হয়। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়।
এমন অভিযোগ পেয়ে বুধবার বিকেলে সেখানে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম লুৎফর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় সত্যতা পাওয়ায় এবং ইজরাদার শর্ত ভঙ্গ করে সড়ক দখল করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজারের ইজারাদার আমানুল্লাহকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
পুলিশ দণ্ডিত ইজারাদারকে নিয়ে রওনা হলে বাজারে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন তাদের বাধা দেয়। স্থানীয়রা পুলিশের হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হয়। এ সময় দায়িত্ব পালনরত পুলিশের এএসআই লুৎফর রহমানসহ কয়েকজনের পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং একপর্যায়ে স্থানীয়রা আমানুল্লাহকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
কাপাসিয়া থানার ওসি আবু বকর মিয়া বলেন, কাপাসিয়া-টোক-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর পশুরহাট বসানোর কারণে যান চলাচল সমস্যা হচ্ছিল। এতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গিয়েছিল। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তিনি ইজারাদারকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
তিনি বলেন, ইজারাদারকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশের ওপর হামলা করে তাদের মারধর করে এবং এ সময় পুলিশের পোশাক ছিঁড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আসামি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ওসি আরও বলেন, এসব ঘটনায় দণ্ডিত আসামি ছিনিয়ে নেওয়া, পুলিশের বৈধ সরকারি কাজে বাধা প্রদান করাসহ অন্যান্য অভিযোগে কাপাসিয়া থানার টোক তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই লুৎফর রহমান বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় টোক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ জলিলসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া আরো অনেক অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে।
আবু বকর মিয়া বলেন, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে টোক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ জলিল এবং মামলার এজাহার নামীয় ২ নম্বর আসামি ফায়জুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে।
কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একেএম লুৎফর রহমান বলেন, সড়কে অস্থায়ী বাজার বসিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির কারণে ভ্রাম্যমাণ পরিচালনা করে ইজারাদারকে সাজা দেওয়া হয়। পরে দণ্ডিত ব্যক্তিতে নিয়ে আসার সময় ইজারাদারের লোকজন পুলিশকে বাধা দেয়। তারা পুলিশের কাছ থেকে আসাসি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমানত হোসেন খান বলেন, সড়কে বাজার বসিয়ে যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে সেটি ঠিক হয়নি। একইভাবে সরকারি কাজে বাধা দেওয়াও ঠিক হয়নি। যারা সরকারি বাধা দিয়েছে তাদের বিচার হোক। তবে, ঘটনার সময় চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ঘটনার একটি ভিডিওতে সেখানে চেয়ারম্যানকে দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, তাছাড়া তার ভাতিজা ইজারাদার আমানুল্লাহর সঙ্গে আব্দুল জলিলের সম্পর্ক ভালো না। তাই তিনি আমানুল্লার পক্ষে ছিলেন, এটিও সত্য নয়। আমি আশা করব, নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হোক, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়।
মন্তব্য করুন