বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শতবর্ষী শিমুলতাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যমুনার ভাঙনে বিলীন হতে যাওয়া বিদ্যালয়টি বাঁচানোর আশা ছেড়ে দিয়ে নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।
কয়েকদিন ধরেই সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও শনিবার (৮ জুন) থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমার কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। রোববার (৯ জুন) সকালে উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের শিমুলতাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে যমুনা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এতে এ বিদ্যালয়টি যমুনায় নদীতে বিলীন হতে চলেছে।
বিদ্যালয়টির একাংশ ইতোমধ্যে যমুনায় বিলীন হয়েছে। তাই এ বিদ্যালয়টির নিলাম দিতে দ্রুত প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন। গত বছর এ বিদ্যালয়ের পাশে তীব্র ভাঙন দেখা দিলে পরিদর্শন করেন বগুড়া জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও এবং টিও ব্যাগ ফেলানো হয়। এতে এ এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙন কিছুটা রোধ হয়। কিন্তু রোববার দুপুর থেকে আবারো ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে করে শিমুলতাইড় গ্রামের শতাধিক পরিবার এবং এই গ্রামের একমাত্র আশ্রয়ণ প্রকল্পটি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবির বলেন, ১৯০৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। বর্তমানে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এ ছাড়াও ৭জন শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে দুই শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। যেহেতু বিদ্যালয়টির পরিস্থিতি খুবই খারাপ তাই এটি নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, স্কুলটি রক্ষার জন্য প্রাপ্ত বরাদ্দ অনুযায়ী আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু এখানে বড় আকারের বাজেট প্রয়োজন। তাই স্কুলসহ এলাকাবাসীকে বাঁচাতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদুর রহমান কালবেলাকে বলেন, যেহেতু বিদ্যালয়টির পরিস্থিতি তেমন ভালো মনে হচ্ছে না, তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে বিদ্যালয়টি নিলামে দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন