চাঁদপুর ফরিদগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে মাদকাসক্ত ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেছেন এক বাবা।
শনিবার (২২ জুলাই) ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবে লিখিত সংবাদ পাঠ করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মো. শহিদ উল্লা তপাদার।
ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মামুনূর রশীদ পাঠানের উপস্থাপনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মো. শহিদ উল্লা তপাদার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘গত ১৯ জুলাই ফরিদগঞ্জ থানার মূলপাড়া গ্রামের আমার বসতবাড়ির সামনে থেকে আমার মেঝ ছেলে আরিফ হোসেনকে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ৬ পিস ইয়াবাসহ আটক করে। এরপর তার বিরুদ্ধে থানায় পুলিশ বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা রুজু করে জেলহাজতে পাঠায়।’
‘আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে ছোট ছেলে গত ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় একটি দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করে। এরপর আমার তিন ছেলে ও আমার এক মেয়েকে নিয়ে দিনাতিপাত করে আসছি। এদের মধ্যে আমরা মেঝ ছেলে আরিফ হোসেন ফরিদগঞ্জ থানাধীন সরখাল কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত। আরিফ এলাকার কিছু বখাটে লোকদের এবং আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সংস্পর্শে এসে তাদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে মাদকাসক্তের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি আমি জানতে পেরে বহুবার তাকে ফেরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। এলাকায় আমার রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে মানসম্মান ক্ষুণ্ণ করতে কিছু কুচক্রী মহল এবং আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন আমার ছেলে আরিফকে তাদের দলে নিয়ে মাদক সেবন করায়। এমনকি আমার পেছনে লেলিয়ে দেয়। বিষয়টি আমার দৃষ্টিতে আসার পর পরিবারের সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আরিফকে পরিবার থেকে ভিন্ন করে দিই। পাশাপাশি তাকে আমার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হতে কোনো হিস্যা না দিয়ে মৌখিকভাবে বাড়ির সবার সামনে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করি।’
আরও পড়ুন : গাজীপুরে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু
তিনি বলেন, গত প্রায় এক বছর ধরে আমার মেঝ ছেলে আরিফ হোসেনের সঙ্গে আমার কিংবা আমার পরিবার পরিজনদের কারো কোনো পারিবারিক সম্পর্ক কিংবা যোগাযোগ নেই। কিন্তু আমার মেঝ ছেলে আরিফ হোসেন গত ১৯ জুলাই ফরিদগঞ্জ থানার মুলপাড়া গ্রামের আমার বসতবাড়ির সামনে থেকে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ৬ পিস ইয়াবাসহ আটক হওয়ার পর বিষয়টি আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বিভিন্নভাবে অপপ্রচার শুরু করে। ওই ঘটনায় আমার নাম জড়িয়ে বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে আসছে। এতে প্রতীয়মান হয়, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমাজের কুচক্রী মহল তাকে দিয়ে এসব কাজ করে আসছে। উদাহরণ স্বরূপ আরও বলতে চাই যে, আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য আমি মাদক ব্যবসা করি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদে মাদক বেচাকেনা করি, এ ধরনের মিথ্যা ভিত্তিহীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বানোয়াট অভিযোগ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আহম্মেদের নাম দিয়ে পুলিশ সুপার চাঁদপুরের নিকট দায়ের করেন। পুলিশ সুপার অভিযোগটি তদন্তের জন্য সহকারী পুলিশ সুপার হাজীগঞ্জ সার্কেল হাজীগঞ্জ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদগঞ্জ থানায় তদন্তের জন্য পাঠালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আহম্মেদ সহকারী পুলিশ সুপার হাজীগঞ্জ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে দরখাস্ত করেন নাই এবং ওই দরখান্ত মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মর্মে লিখিত মতামত পেশ করেন। বিগত চার বছর আমাকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্ব থেকে সরানোর জন্য বিভিন্ন অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। যা আমার বীর মুক্তিযোদ্ধারা সাক্ষী। আমার বড় ছেলে রেজাউল করিম তপাদারকে দুটি মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের সাক্ষী রেখে তিনি বলেন, আপনারা জাতির বিবেক ও বিবেকের দর্শন হিসেবে কাজ করে আসছেন। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য সারা বিশ্বের লোকজন জানতে পারে। আমি আজ আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে জানাতে চাই যে, আমি পুনরায় আমার মেঝ ছেলে আরিফ হোসেনকে ত্যাজ্যপুত্র হিসাবে ঘোষণা করলাম। ২২ জুলাই হতে আমার কিংবা আমার পরিবার পরিজনের কারও সঙ্গে আমার মেঝ পুত্র আরিফ হোসেনের কোনো প্রকার সম্পর্ক কিংবা যোগাযোগ থাকবে না। আমার কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিতে তার কোনো অংশ থাকবে না।
‘এমতাবস্থায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে অভিযুক্ত আরিফ হোসেনের নাম সংযুক্ত করে ভবিষ্যতে কোনো সংবাদ প্রচার না করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অনুরোধ করছি, তারা যেন আরিফের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে এলাকাকে মাদক মুক্ত করেন।’
মন্তব্য করুন