ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে একটি গরু। নাম রাখা হয়েছে ‘কালা পাহাড়’। সাড়ে ৫ ফিট লম্বা এ গরুটির ওজন প্রায় ১৫ মণ। ‘কালা পাহাড়’কে কিনতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন পাইকাররা। এখন পর্যন্ত দাম উঠেছে ১০ লাখ টাকা।
জানা যায়, ‘কালা পাহাড়’ প্রতিদিন ঘাস, খড় ও ভুষিসহ মোট ১৫ কেজি খাবার খায়। বর্তমানে এর বয়স দুই বছরের একটু কম। তবে প্রায় এক বছর যাবত লোকবলের অভাবে কালা পাহাড়কে ঘর থেকে বের করা সম্ভব হয়নি। এবার কোরবানির ঈদে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করার আশা কালা পাহাড়কে।
গরুর পরিচর্যাকারী হামিদ শেখ জানান, অনেক আদর করে কালা পাহাড়কে লালন-পালন করা হয়েছে। কালা পাহাড়কে আদর করলে খুশি হয়। তাকে ভালোবাসলে সেও ভালোবাসে, আর ভালো না বাসলে লাথি-গুঁতা দেয়। আমি মাঝে মাঝে চুমা খাই। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত আমি কালা পাহাড়কে দেখাশোনা করি।
তিনি আরও জানান, তবে ঘর থেকে গরুটি খুব কম বের করতে পারেন। গত ১০ দিন যাবৎ গরুটি ঘর থেকে বের করা হচ্ছে। কারণ গরুটি বের করতে হলে ৫ থেকে ৭ জন লোক লাগে। তাই প্রায় এক বছর ধরে ঘরের ভিতরে রেখেই গরুটি লালনপালন করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত গরুটিকে ক্রয়ের জন্য রাজবাড়ী, নড়াইল, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল ও খুলনা থেকে পাইকাররা নিয়মিত আসছেন।
গরুর মালিক ব্যবসায়ী আবুল মুন্সী জানান, তিনি গরুর খামারি নন। শখ করে পোষা শুরু করে এ গরুটি। যখন জানতে পারেন এটি বড় জাতের গরু, তখন সে নিয়ত করেন এ গরু বড় করে বিক্রি করবেন।
তিনি বলেন, কালা পাহাড়কে বিক্রি করে যে টাকা হবে তা দিয়ে মা, বউকে নিয়ে ওমরা হজে যাব। আর এ জন্য আমি গরুটিকে মোটাতাজাকরণের জন্য কোনো প্রকাশ ওষুধ খাওয়াইনি। আর আশা এবার কোরবানির ঈদে কালা পাহাড়কে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করার।
সদরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আসজাদ বলেন, আমিসহ অফিসের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বিভিন্ন ইউনিয়নের (এল.এস.পি) বৃন্দ সার্বক্ষণিক খামারিদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি। খামারে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে নিয়মিত গরু ও ছাগলে কোনো সমস্যা আছে কি না। এই উপজেলার বড় একটি ষাঁড় কালা পাহাড়। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুর মালিক ষাঁড়টি বড় করেছে। আশা করছি কোরবানির পশুর হাটে ষাঁড়ের মালিক ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আবার এই উপজেলায় ৯০৭টি খামারে ছোট বড় মাঝারি আকারের হলেস্টাইন ফ্রিজিয়াম, জার্সি, ব্রাউই সুইট, নওরেজিয়ান রেড, লাল, ব্রাহামা এবং সাদা হলেস্টাইন ও দেশিসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ২৪৩০টি ষাঁড়, ১৩৫টি গাভী, ১০৮৬০টি ছাগল ও ১৫টি ভেড়াসহ মোট ১৩৪৪০টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হবে।
মন্তব্য করুন