নরসিংদীতে এক প্রতিবন্ধী যুবককে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রতিবন্ধী যুবকের মা।
রবিবার (২ জুন) রাতে মাধবী থানায় মামলাটি করেন আহত যুবকের মা রেজিয়া বেগম।
মোস্তাফিজুর রহমান বাবু সদর উপজেলার পাঁচদোনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহব্বায়ক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
আহত বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবক সোহেল মিয়া সদর উপজেলার চর মাধবদী এলাকার মৃত সাইদ মিয়ার ছেলে।
আহত সোহেল মিয়ার মা রেজিয়া বেগম বলেন, ‘আমি আমার পরিবার নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি, কখন যে আবার বাবু হামলা চালায়। সে এলাকার মধ্যে প্রভাবশালী নেতা। থানায় মামলা করেছি। আমার ছেলেকে চিকিৎসা করার টাকা পর্যন্ত আমার কাছে নেই। আমরা নিরীহ মানুষ, আমার প্রতিবন্ধী ছেলেকে অমানবিকভাবে মারার বিচার দাবি চাই।’
মাধবদী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে সোহেলের মা রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি মামলা করেছেন।
এ ছাড়া একই দিন মাধবদী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অমানবিক কাজ করায় পাঁচদোনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক পদ থেকে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পাঁচদোনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করা হলো।
মোস্তাফিজুর রহমান বাবুকে অব্যাহতির বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবদী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম হাফিজুর রহমান সৈকত বলেন, কোনো অপরাধের দায় ছাত্রলীগ নেবে না। ছাত্রলীগের পদ নিয়ে কেউ অপরাজনীতি করবে সেটা আর সম্ভব না। সে অমানবিক কাজ করেছে তাই সংগঠন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য এটা একটি শিক্ষা।
এর আগে বুধবার (২৯ মে) চরমাধবদী এলাকায় স্থানীয় একটি দোকানে যায় প্রতিবন্ধী সোহেল। এ সময় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর বাবা মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে বিস্কুট খাওয়া নিয়ে কথাকাটাকাটি হয় সোহেলের। পরবর্তীতে স্থানীয় এলাকাবাসীর সমন্বয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়।
এরপর শুক্রবার (৩১ মে) সকালে প্রতিবন্ধী সোহেল বাজারে গেলে তাকে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে আহত করে কলাবাগানে ফেলে চলে যায় ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবু।
মন্তব্য করুন