বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল বাংলাদেশের স্থলভাগের দিকে ধেয়ে আসছে। এর প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে উপকূলীয় পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ রাঙ্গাবালী উপজেলার ২৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের একাধিক জায়গা থেকে পানি প্রবেশ করায় গরুভাঙ্গা, চরলতা ও চিনাবুনিয়াসহ ওই ইউনিয়নের সব কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার মধ্যে সর্বাধিক দুর্ভোগের শিকার ওই ইউনিয়নের জনগণ।
এ ছাড়া চরমোন্তাজ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমোন্তাজ নয়ারচর এলাকায় গ্রামরক্ষা বাঁধ অতিক্রম করে গ্রামের মধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। এতে বউবাজার, নয়ারচর, দক্ষিণ চরমোন্তাজ, উত্তর চরমোন্তাজ, মোল্লাগ্রাম ও চর আণ্ডাসহ ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এ ছাড়াও মৌডুবী ইউনিয়নের আওতায় চরহেয়ার, আশাবাড়িয়া, নিচকাটা ভাঙ্গার খাল এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ আগে থেকেই ভাঙা থাকায় জোয়ারের পানিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। চরমন্তাজের অনেক জায়গায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেশিরভাগ জায়গা প্লাবিত হয়েছে। আমরা পানিবন্দিদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করছি।
প্রসঙ্গত, ঘূর্ণিঝড় রিমাল রোববার (২৬ মে) সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম শুরু করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বর্তমানে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকায় ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত জারি রয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন