বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে। তবে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো বৈরী প্রভাব আবহাওয়া দেখা যায়নি।
শনিবার (২৫ মে) সকালে আকাশে মেঘ দেখা গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। তবে নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি দেখা যায়।
জেলেদের ৬৫ দিনের অবরোধ শেষ না হওয়ায় জেলে পল্লিগুলোতে জেলেরা জাল ও ট্রলার নিয়ে নিরাপদে আছেন। জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও তারা নিরাপদে আছেন।
এই দিকে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিভিন্ন কর্মকর্তা, এনজিও ও জনপ্রতিনিধিরা। তবে সাধারণ মানুষ ভাবছেন হয়ত বা হঠাৎ যে কোনো মুহূর্তে পরিবেশ পরিস্থিতি ঘূর্ণিঝড়ের অনুকূলে চলে যেতে পারে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় পটুয়াখালীতে জরুরি প্রস্তুতি সভা করেছেন জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম। সকাল সাড়ে ১০টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের দরবার হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসক জানান, সম্ভাব্য এ দুর্যোগ মোকাবিলায় সমগ্র জেলায় ৭০৩টি সাইক্লোন শেল্টার ও ৩৫টি মুজিবকিল্লা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে; যাদের সংরক্ষণে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট আছে।
এ ছাড়াও উপকূলের মানুষকে সচেতন করা ও দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য রেড ক্রিসেন্ট ও সিপিপির ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্বাস্থ্য বিভাগ, সড়ক বিভাগ, ফায়ার সার্ভিসকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড়ে নিরাপদ থাকতে কী করবেন?
ঘূর্ণিঝড়ের সময় নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে কী করবেন, আর কী করবেন না-
১. বাড়ির কাছাকাছি থাকা মরা গাছের ডাল ছেঁটে ফেলুন। গাছের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। যাতে বাড়ির ওপর এসে না পড়ে।
২. টিনের পাতলা শিট, লোহার কৌটা যেখানে সেখানে পড়ে থাকলে এক জায়গায় জড়ো করুন। না হলে ঝড়ের সময় এর থেকে বিপদ হতে পারে।
৩. কাঠের তক্তা কাছে রাখুন যাতে কাঁচের জানালায় সাপোর্ট দেওয়া যায়।
৪. ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য জরুরি বৈদ্যুতিক যন্ত্র আগে থেকেই চার্জ দিয়ে রাখুন।
৫. হালকা শুকনো খাবার রাখুন বড়সড় বিপদের জন্য।
৬. পর্যাপ্ত পানি মজুত রাখুন।
৭. যে ঘরটি সবচেয়ে নিরাপদ সেখানে আশ্রয় নিন।
৮. বাড়ির পোষ্য ও গবাদি পশুদেরও নিরাপদ স্থানে এনে রাখুন।
৯. বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে টিভি খবরে নজর রাখুন। না হলে রেডিও চালিয়ে রাখতে পারেন।
১০. ঝড় থামতেই বাইরে বের হবেন না। অপেক্ষা করুন কারণ ঘূর্ণিঝড় চক্রাকারে ঘোরে।
মন্তব্য করুন