সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় লুডু খেলতে নিষেধ করায় বন্ধুদের এলাপাতাড়ি পিটুনিতে এক কিশোর নিহতের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার রাজাপুর গ্রামের দক্ষিণপাশে থাকা কবরস্থান সংলগ্ন চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই কিশোরের নাম আকিব শাহ (১৪)। সে উপজেলার রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক কামরুল হাসানের ছেলে। সে বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিহত কিশোরের বাবা বাদী হয়ে একই গ্রামের শাহ জাহান কবীরের ছেলে ইনসান (১৯), আলী হোসেনের ছেলে অন্তর শাহ (১৯), শান্ত মিয়ার ছেলে নাজমুল হোসেন (২০) ও সাইকুল ইসলামের ছেলে রায়হান মিয়া (১৯) এই ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে ধর্মপাশা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পাইকুরাটি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের দক্ষিণ পাশে থাকা গ্রামবাসীর কবরস্থান রয়েছে। রাজাপুর গ্রামের ইনসান, অন্তর, নাজমুল, রায়হানের সঙ্গে একই গ্রামের আকিবের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলে আসছিল। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই চারজন বসে রাজাপুর কবরস্থান চত্বরে বসে লুডু খেলছিল। এ সময় আকিব সেখানে গিয়ে লুডু খেলতে নিষেধ করায় তাকে তারা গালমন্দ শুরু করে। একপর্যায়ে তারাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন আকিব শাহকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি ও লাথি মারলে আকিব ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
দুজন শিশু ঘটনাটি দেখে চিৎকার দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে যাচ্ছে দেখতে পায়। পরে আকিবকে অজ্ঞান অবস্থায় সেখান থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ধর্মপাশা থানার ওসি মো.শামসুদ্দোহা জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। এই মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত নামা ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার দিন রাতেই এই ৪ জনকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে। মামলার এজাহারে এই ৪ জনকে প্রাপ্ত বয়স্ক দেখানো হলেও জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তাদের বয়স ১৮ এর নিচে রয়েছে। যেহেতু ওই চারজন প্রাপ্ত বয়স্ক নয়, তাই সংঘাতে জড়িত শিশু হিসেবে তাদেরকে থানা পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে। তাদেরকে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির লাশটি সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন