কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার পূর্ব সুখাতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী। ৮ জন শিক্ষকের এ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
রবিবার (১২ মে) চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে ওই বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস না করায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে উপজেলাজুড়ে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা পড়েছেন হতাশায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০১০ সালে জুনিয়র পর্যায়ের (অষ্টম শ্রেণি) পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয় বিদ্যালয়টি। এরপর ২০১২ সালের পর থেকে নবম ও দশম শ্রেণির পাঠদান পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। গত বছরে এসএসসি পরীক্ষায় ৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৫ জন পাস করে।
এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাঁচজনই ফেল করেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ২০৬ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক আছেন ৮ জন।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে কোনো পাঠদানই করান না। আড্ডাবাজী এবং ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা তাদের প্রধান কাজ। সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ ওই সমস্ত স্কুলের শিক্ষকদের পাঠদানের বিষয়টি কঠিন এবং কঠোরভাবে মনিটরিং করলে শিক্ষার্থীদের আজ এ অবস্থা হতো না। ফলাফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করার বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল ওহাব বলেন, শিক্ষার্থীদের বাল্যবিবাহ এবং করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে যাতে এমনটা না হয় সেই জন্য আমরা সচেতন থাকব।
কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম কালবেলাকে বলেন, শতভাগ ফেলের বিষয়ে হতবাক হয়েছি। এসব স্কুলের বেতন বন্ধ হওয়া দরকার। প্রধান শিক্ষকরা নিজেদের মতো করে প্রতিষ্ঠান চালায়। করোনা কাল শেষ হওয়ার সাড়ে ৩ বছর পরেও এসে করোনার দোহাই দেওয়াটা অযৌক্তিক। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন