আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমিতে ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স’ ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মাহমুদকে আইনি নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। পটুয়াখালীর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে সিআর ৩৪০/২৩ মামলার বাদী মো. সিদ্দিকুর রহমানের পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বাদশা গত ২৫ এপ্রিল ওই আইনি নোটিশটি প্রদান করেন।
নোটিশে বলা হয়, সাবেক বাকেরগঞ্জ জেলা বর্তমানে পটুয়াখালীর দুমকি থানা, স্টেশন ও সাবরেজিস্ট্রার দুমকি জেএল নং ২৪, সিএস ৮১নং খতিয়ানের ৬৭৭ নং দাগে মোট জমি ২৫ শতাংশ রেকর্ডিও মালিক ময়মুনা বিবি। যার আরএস নং ১৮০, দাগ নং ১২২৬ রেকর্ডিও মালিক গয়জদ্দিন গং নোটিশদাতার পূর্ববর্তী ওই জমি এসএ ৪৬২ নং খতিয়ানে মথুরানাথ গং এর নামে অশুদ্ধমতে রেকর্ড হয়। এতে নোটিশ দাতা মো. সিদ্দিকুর রহমান গং পটুয়াখালীর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মালিকানা স্বত্বে ৩৪০/২৩ মামলা দায়ের করেন। আদালত তপশিল বর্ণিত জমির স্থিতাবস্থার জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়।
এ মামলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দুমকি ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসককে ২/৩ নম্বর বিবাদী করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার বাদী সিদ্দিকুর রহমান ও তার ছেলে ফিরোজ আলমকে ইউএনও’র নিজ দপ্তরে ডেকে নিয়ে মোবাইল কোর্টের সাজা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন। পরে জোরপূর্বক ‘মুক্তিযোদ্ধা ভবন’ ও এর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন।
আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ওই স্বাক্ষরযুক্ত সাদা কাগজ ও মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ ফেরত দেওয়া না হলে তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে ফৌজদারি, দেওয়ানি ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসহ সরকারি কর্মচারীদের প্রচলিত নিয়মবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দায়িত্বরত এসিল্যান্ড মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা পেয়ে ঠিকাদারকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি এবং লিগ্যাল নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবীকেও বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছি। পরে ঠিকাদার কাজ করেছে বলে আমার জানা নেই। হুমকি-ধমকির অভিযোগ সঠিক নয়।
মন্তব্য করুন