গোপালগঞ্জ সদরে দুর্বৃত্তদের ছোড়া হাত বোমায় ছয় বছর বয়সী সন্তানসহ এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাতে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ঘোষেরচর উত্তর পাড়ায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন ঘোষেরচর উত্তর পাড়ায় গ্রামের মাসুদ শেখ ও তার ছেলে আব্দুল রাশেদ শেখ। তিনি গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী পদে চাকরি করেন।
সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আনিচুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহত মাসুদের ভাবি ফরিদা বেগম বলেন, রাতে আমরা ঘরে ভাত খাচ্ছিলাম। এ সময় লোডশেডিংয়ে অন্ধকার হয়ে যায়। বিকট শব্দে শুনে ঘর থেকে দৌড়ে বের হই। এসে দেখি মাসুদ ও তার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার ওপর পড়ে আছে। একটু পাশে তার মোটরসাইকেল পড়ে আছে। মোটরসাইকেল থেকেও আগুনের ধোঁয়া বের হচ্ছিল। ঘরের দরজায় বড় ছিদ্র হয়েছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
ওসি আনিচুর রহমান বলেন, মাসুদ শেখ রাত ৯টার দিকে ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে গোপালগঞ্জ শহর থেকে বাড়ি পৌঁছান। এ সময় ৪/৫ জন দুর্বৃত্ত তাদের লক্ষ্য করে হাত বোমা নিক্ষেপ করে। বিস্ফোরণে বাবা-ছেলে দুজনেই গুরুতর আহত হন। তাদের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। মাসুদ শেখের বাম পায়ের মাংস উড়ে গেছে এবং হাড় ভেঙে গেছে। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুল কবির চন্দনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন টিম কাজ করছে। আহত পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেয়নি। তারপরও আমরা তদন্ত শুরু করেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু হয়েছে। দ্রুত আমরা এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারব।
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক গাজী মো. আশিকুজ্জামান বলেন, মাসুদ শেখের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়েছে। বাম পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে ও হাড় ভেঙে গেছে। পেটে বড় ইনজুরি রয়েছে। আমার ধারণা, তার পেটের মধ্যে কিছু রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে তাকে অপারেশন করিয়ে পেট থেকে সেটা বের করতে হবে।
তিনি বলেন, এছাড়া মাসুদের শরীরের ৩০ শতাংশ ও ছেলের শরীর ২৭ শতাংশ পুড়ে গেছে। মাসুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে ছেলে আব্দুল রাশেদ শঙ্কামুক্ত। তাদের দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন