চহ্লামং মারমা, থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

থানচিতে পর্যটন ব্যবসায় ধস

বান্দরবনের থানচির একটি পর্যটন স্পট। ছবি : কালবেলা
বান্দরবনের থানচির একটি পর্যটন স্পট। ছবি : কালবেলা

ঈদ, পহেলা বৈশাখ ও সাংগ্রাই উৎসব ঘিরে বান্দরবানে ব্যাপক পর্যটকের সমাগম হয়। বছর ঘুরে এসব উৎসব এলেও এবারের পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। সম্প্রতি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ব্যাংকে হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনার পর পর্যটন খাতে কালো ছায়া পড়েছে। ভয়ে ও আতঙ্কে পর্যটকরা আগে থেকে করে রাখা বুকিং বাতিল করছেন। এতে ভরা মৌসুমে লোকসানের দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পর্যটন ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা।

বান্দরবান জেলার থানচি শুরু থেকে পর্যটকদের আকর্ষণ ইতোমধ্যে দেশ ছড়িয়ে বিদেশেও খ্যাতি অর্জন করেছে। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরত্বে থানচির অবস্থান। পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে অবস্থানকারী জেলাগুলোর মধ্যে বান্দরবান অন্যতম। চট্টগ্রাম থেকে ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে পাহাড়ি শহর বান্দরবান অবস্থান। এ জেলার আয়তন ৪৪৭৯ বর্গ কিলোমিটার। বান্দরবান জেলার উত্তরে রাঙ্গামাটি জেলা, দক্ষিণের আরকান, মায়ানমার, পূর্বে ভারতে মিজোরাম ও মায়ানমারে, পশ্চিমে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা।

বান্দরবান থানচি সড়কের মাঝখানে রয়েছে জীবননগর নামক স্থানে নীলগিড়ি, নিল দিগন্ত এইটি ম্রো অধ্যুষিত এলাকা। থানচি উপজেলা হতে আলিকদম উপজেলা সংযোগ সড়কের থানচি সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে ক্রাউডং (মারমা) ডিম পাহাড় (বাংলা) নৌপথে সাংগু নদী বেয়ে তিন্দু ইউনিয়নের একটি নাম বংডঃ, ক্যাপজা স্বং (স্থানীয় মারমা) রাজা পাথর (বাংলা) মনোরম পরিবেশে মাঝে ভ্রাম্যমাণ রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এরপর রেমাক্রী খাল। রেমাক্রী মারমা-অধ্যুষিত এলাকা। বান্দরবান জেলার যে স্থানগুলোর কারণে এই উপজেলাটি পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে থাকা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে তা হচ্ছে নাফাখুম ঝরনা, আমিয়াখুং ঝরনা, ভেলাখুং ঝরনা, সাত ভাই খুং ঝরনা, লাংলুক ঝরনা, লৈক্ষ্যং ঝরনা, চিংড়িৎ ঝরনাসহ অসংখ্য ঝরনা।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, বান্দরবান জেলায় পর্যটকদের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থানগুলো হচ্ছে- রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলা।বিরাজমান পরিস্থিতিতে এই তিন উপজেলাতে যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনা করায় দর্শনীয় স্থানে যাতায়ত করা পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ এলাকায় দোকানপাট বন্ধ। যানবাহন চলাচল সীমিত। সন্ধ্যার আগেই লোকজন ঘরবন্দি হয়ে যাচ্ছে।

নাফাখুং হোটেল মালিক হ্লাচিংমং মারমা জানান, এবারে ঈদ, পহেলা বৈশাখ ছুটিতে হোটেল-মোটেলের শতভাগ রুম বুকিং হওয়া কথা। কিন্তু হঠাৎ করে গত ২ এপ্রিল রাতে কেএনএফ রুমার সোনালী ব্যাংক ডাকাতি,অস্ত্র লুট, ম্যানেজার অপহরণ এবং তার পরের দিন ৩ এপ্রিল দিন দুপুরে থানচি সোনালী ও কৃষি ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় অস্থির হয়ে পড়েছে বান্দরবান। শুরু হয় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান আর এই খবর দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে আর লোকজন আসছে না। এমন সময় থানচি রেমাক্রীতে হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম হওয়ার কথা। এবারে সব ভিন্ন।

তিনি বলেন, পর্যটক না আসার কারণে এই ঈদ মৌসুমে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের গুনতে হবে লাখ লাখ টাকার লোকসান।

নৌকার ড্রাইভার অংডাই মারমা জানান, থানচিতে পর্যটকের ছুটে চলার একমাত্র মাধ্যম হলো নৌকা। যেখানে নৌকার সংখ্যা রয়েছে পাঁচ শতাধিক, চালক রয়েছেন ৫০০ জনের মতো। তাদের প্রধান আয়ের উৎস পর্যটক। নৌকা চালাতে পারলে সংসারের চাকা ঘুরবে, কিন্তু বর্তমান বিভিন্ন কার্যকলাপে পাহাড় হয়ে উঠেছে অশান্ত। এমন পরিস্থিতিতে ড্রাইভাররা দিনশেষে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন কালবেলাকে বলেন, সরকারিভাবে পর্যটকের নিরুৎসাহিত করা হয়নি, তবে এমন পরিস্থিতি শোনার পরে আর কেউ ঘুরতে আসবে বলে মনেও হয় না। তবে পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিটরা অনেক কষ্ট ও লোকসানে পড়বে বোঝা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলা নববর্ষ ও সাংগ্রাই অনুষ্ঠানে অনেক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদসরা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) শতাধিক অস্ত্রধারী রাত সাড়ে ৯টার দিকে এসে রুমা উপজেলার ইউএনও অফিসসংলগ্ন মসজিদ ও ব্যাংক ঘেরাও করে। তারা সোনালী ব্যাংকের টাকাসহ ডিউটিরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৪টি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারা যাওয়ার সময় রুমা সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনকেও অপহরণ করে। পরের দিন বুধবার (৩ এপ্রিল) থানচি উপজেলা শহরের সোনালী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শাখায় ডাকাতি হয়। রুমার ঘটনার পর যৌথ অভিযান চালিয়ে সোনালী ব্যাংকের অপহৃত ম্যানেজার নেজাম উদ্দীনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে র‌্যাব ও সেনাবাহিনী। এরপর কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব ঘটনায় ৮টি মামলা দায়ের করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই জড়িতদের ধরতে এবং সন্ত্রাসীদের নির্মূলে ৬ এপ্রিল যৌথ বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। দুদিনের অভিযানে ১৮ নারীসহ ৫৬ জনকে আটক করে যৌথ বাহিনী। বাকি সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যালয়ে কোনোরকম উচ্ছৃঙ্খলতা ছিল না

নারায়ণগঞ্জে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কাপড় জব্দ

ইদানীং শিক্ষকদের এক ধরনের হেয় করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে

মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষা খুব জরুরি

কক্সবাজার সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতা নিহত

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে বন্ধন সেটি ছিন্ন হয়ে গেছে

হত্যা মামলায় রসিকের সাবেক কাউন্সিলর মিলন গ্রেপ্তার

শিক্ষকদের শিক্ষাবাণিজ্য থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

হুইলচেয়ারে বসেই আলো ছড়াচ্ছেন ফয়সাল

হেঁটে এক টাকায় জ্ঞান বিলিয়ে যাচ্ছেন লুৎফর রহমান

১০

সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী মারা গেছেন

১১

ময়মনসিংহে মায়ের হাতে মেয়ে খুন

১২

কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না : সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

১৩

টিসিবির পণ্যসহ আটক বিএনপির সেই সভাপতিকে অব্যাহতি

১৪

বাংলা ভাষাকে ‘ধ্রুপদী ভাষা’র মর্যাদা দিল ভারত

১৫

রাজশাহী মহানগর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

১৬

শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে বিজিবি

১৭

চট্টগ্রামে ফের তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন

১৮

আসিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হতে মালয়েশিয়ার সমর্থন চায় বাংলাদেশ

১৯

খুলনায় সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ৪ নেতাকে বহিষ্কার

২০
X