গোপালগঞ্জের সাভানা ইকো রিসোর্টে ঘুরতে গিয়ে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে পার্ক কর্মচারীদের হামলায় শিশুসহ একই পরিবারের সাতজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ এপ্রিল) বিকালে সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগী টোল গ্রামে অবস্থিত সাভানা ইকো রিসোর্টে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন সদর উপজেলার পাইককান্দি গ্রামের মামুন ফকির, সোনিয়া আক্তার, সিয়াম, আসমা বেগম, সোনা মিয়া ফকির, আসাদ শেখ ও সালমান শেখ।
হামলার শিকার মামুন ফকির বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিন পরিবার নিয়ে সাভানা ইকো রিসোর্টে ঘুরতে যাই। পরিবারে ১৩ জন মিলে প্রত্যেকে ১০০ টাকায় টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করে ঘোরাঘুরি করে ছবি তুলছিলাম। একপর্যায়ে আমার বাচ্চাকে রিসোর্টের একটি রেলিংয়ে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলছিলাম। এতে পার্কের এক কর্মচারী বাধা দেয় ও গাড়িচাপা দিতে চায়।
তিনি বলেন, এ নিয়ে আমার সঙ্গে কথাকাটাকাটি হলে সে আমার পায়ের ওপর গাড়ির চাকা তুলে দেয়। আমি তাকে ধাক্কা দিলে সে ফোন করে আরও ৪/৫ জনকে নিয়ে আসে। তারা আমাকে লাঠি দিয়ে পেটায় ও মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেটে যায়।
আহত মামুন আরও বলেন, আমার মা ও বোনেরা ঠেকাতে গেলে তাদেরও লাঠিপেটা করে। ছোট বাচ্চাদের কিল ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। আমি যদি মারা যেতাম তাহলে আমার সন্তান ও মা-বাবার কী হতো। আমি আইনের আশ্রয় নেব।
মামুনের শ্যালক আসাদ শেখ বলেন, ঘটনা খুবই সামান্য। ছবি তোলা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। নিষেধ করেছে আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের গায়ে হাত তুলল। এটা মোটেও ঠিক করেনি। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
আহত মামুনে মা আসমা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করলে আমি ঠেকাতে যাই। ওরা আমাকেও মেরেছে। শুধু আমাকে নয় আমাদের সবাইকে মারধর করেছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিছে। যা করেছে ঠিক করেনি। এর বিচার চাই।
গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বিচিত্র বিশ্বাস বলেন, কিছু রোগী এসেছেন আঘাতজনিত সমস্যা নিয়ে। এর মধ্যে একজনের মাথায় সেলাই লেগেছে তার নাম মামুন ফকির। বাকিদের আঘাত সামান্য। তবে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা চিহ্ন দেখা গেছে।
সাভানা ইকো রিসোর্টের ম্যানেজার মো. আসাদের কালবেলাকে বলেন, আমি কাজে ব্যস্ত ছিলাম। শুনেছি কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মারপিটের ঘটনা ঘটেছে এটা আমাকে কেউ বলেনি। তারপরও আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে খুবই খারাপ ঘটনা।
মন্তব্য করুন